অচলাবস্থা কাটিয়ে আবার সচল চট্টগ্রাম বন্দর, জেটি ও বহির্নোঙরে পুরোদমে কাজ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:২০ পিএম
অচলাবস্থা কাটিয়ে আবার সচল চট্টগ্রাম বন্দর, জেটি ও বহির্নোঙরে পুরোদমে কাজ শুরু

ধর্মঘটের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে চট্টগ্রাম বন্দর। জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো ও নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর এবং কনটেইনার ডিপো থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার এনে জাহাজে তোলার কার্যক্রমও পুরোদমে চলছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ রোববার সকাল আটটা থেকে ধর্মঘট শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে কোনো চুক্তি হচ্ছে না, সরকারের এমন ঘোষণার পর রোববার দিবাগত রাতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ধর্মঘট চলাকালে বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল, জেনারেল কার্গো বার্থ, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার সকাল থেকে এসব টার্মিনালে পুনরায় জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো নামানোর কাজ শুরু হয়।

জেটি ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, “অচলাবস্থা কেটে গেছে। বন্দরে স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে।”

ধর্মঘটের সময় প্রথমবারের মতো বহির্নোঙরে পণ্য খালাস পুরোপুরি বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেন বলেন, “ধর্মঘটের কারণে বহির্নোঙরে ৬৫টি বড় জাহাজে কাজ বন্ধ ছিল। কর্মসূচি স্থগিত হওয়ার পরই বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর শুরু হয়েছে।”

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক জানান, বন্দরে কোনো ধর্মঘট নেই এবং সব ধরনের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলছে। রোববারও বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, “নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের সন্তোষজনক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রমজানের পণ্য খালাসের স্বার্থে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে আমাদের পাঁচটি সমস্যা সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

এর আগে রোববার রাত ১০টায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও আড়াই ঘণ্টা পর নতুন বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচি স্থগিতের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার, বদলি ও সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বন্দর সূত্র জানায়, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে প্রথমে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হয়। পরে লাগাতার কর্মসূচিতে গেলে বন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। এতে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ে বন্দর ও সংশ্লিষ্ট খাত।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে