মাঘ মাস প্রায় শেষের পথে, ক্যালেন্ডারে বসন্তের আগমন ঘোষণা হয়ে গেছে। স্বাভাবিক নিয়মে এ সময় শীত বিদায়ের কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন শ্রীমঙ্গলে। চা-বাগান বেষ্টিত এই পাহাড়ি জনপদ থেকে এখনো শীত যেন পিছু ছাড়ছে না। দিনের বেলায় রোদের তাপে উষ্ণতা ফিরলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই শীত অনুভুত হচ্ছে। এরই মধ্যে টানা চার দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে শ্রীমঙ্গল। বিরূপ এই আবহাওয়ায় এলাকায় জ্বর, সর্দি, কাশি ও অন্যান্য ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ছিল সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগের দিন রবিবার তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে এবং শুক্রবার ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ফলে টানা চার দিন ধরে শ্রীমঙ্গলেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকছে এবং সূর্যের দেখা মিলছে। এতে দিনের বেলায় তুলনামূলক উষ্ণতা থাকলেও রাত ও ভোরে ঠান্ডা পুরোপুরি কাটেনি। তিনি বলেন, “দিনের বেলায় ঝলমলে রোদ থাকায় শীত না থাকলেও রাত ও ভোরে এখনো শীত অনুভূত হচ্ছে। বরং দুপুরের দিকে কিছুটা গরমও লাগছে।” আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সর্বশেষ গত ৮ জানুয়ারি এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। দিনের বেলায় রোদের উষ্ণতায় স্বস্তি ফিরলেও শীতপ্রবণ এই অঞ্চলের মানুষ এখনো রাত ও ভোরে শীতের ভোগানি— পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে চাুশ্রমিক, বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের জন্য ঠান্ডা আবহাওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে।