রাজশাহী-৪ আসনে প্রচারণা শেষ, ভোটের মাঠে এগিয়ে জামায়াত

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
রাজশাহী-৪ আসনে প্রচারণা শেষ, ভোটের মাঠে এগিয়ে জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে সকল প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় টানা কয়েক সপ্তাহের জমজমাট প্রচারণা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মধ্য দিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। বাগমারা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে রয়েছে ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। বিপুল ভোটার ও বিস্তৃত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রাজশাহী-৪ আসনকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ আসনে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— ধানের শীষ প্রতীকে ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. আব্দুল বারী সরদার, নাঙ্গল প্রতীকে ফজলুল হক, হাতপাখা প্রতীকে তাজুল ইসলাম। স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক একচেটিয়া পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চান তারা। প্রায় ১৬ বছর ধরে বাগমারা আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকায় এবার পরিবর্তনের প্রত্যাশা তুঙ্গে। সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেই অনেক ভোটার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি আস্থা রাখছেন বলে মত দিয়েছেন। বাগমারার পৌরসভার ভোটার রফিকুল ইসলাম বলেন,“আমরা এবার ব্যক্তির সততা, যোগ্যতা আর মানুষের পাশে থাকার ইতিহাস দেখেই ভোট দিতে চাই। ডা. আব্দুল বারী দীর্ঘদিন ধরে মানুষের চিকিৎসা ও সামাজিক সেবায় যুক্ত, এজন্য মানুষ তার প্রতি আস্থাশীল।” একই মত প্রকাশ করেন ভবানীগঞ্জ এলাকার এক নারী ভোটার। তিনি বলেন, “আগে অনেকেই শুধু দল দেখেই ভোট দিত। কিন্তু এবার এলাকার শান্তি, নিরাপত্তা আর উন্নয়নের কথা ভেবে দাঁড়িপাল্লার দিকেই ঝুঁকছে মানুষ।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার রাজশাহী-৪ আসনে মূলত বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই হবে ভোটের লড়াই। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি, জনমত এবং শেষ সময়ের প্রচারণা বিশ্লেষণে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদারকে এগিয়ে রাখছেন অনেকেই। প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোস্টার, ব্যানার ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, বাগমারায় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং সেই পরিবর্তনের নেতৃত্বে থাকতে পারেন ডা. আব্দুল বারী। এখন সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে ভোটের দিন। ভোটাররা তাদের রায় ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ করবেন—কে হবেন বাগমারার পরবর্তী জনপ্রতিনিধি, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে