এবারও সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে নেওয়া হবে না: ধর্ম উপদেষ্টা

এফএনএস অনলাইন: | প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
এবারও সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে নেওয়া হবে না: ধর্ম উপদেষ্টা
ছবি, সংগৃহিত

ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন মঙ্গলবার সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বললেন, গত বছর সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজ নেওয়া হয়নি, এ বছরও কাউকে নেওয়া হবে না। চলতি বছর হজযাত্রীরা তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত পাবেন। 

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “গত দেড় বছর অত্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সঙ্গে আমি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকেও সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি, উৎসাহ-অনুপ্রেরণা যুগিয়েছি।”

ধর্ম উপদেষ্টা জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শূন্যপদে ১৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলাজনিত কারণে ১৯৭ জনকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী, দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের ২৯ জন এবং ১০ থেকে ২০ তম গ্রেডের ৩২ জনকে বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের শূন্যপদে জেনবল নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জুলাই বিপ্লবের পর হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিলো সেটি নিয়ে আমি বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এবছর বিমান ভাড়া গতবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুইবছরে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করার মতো অর্জন বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের হজে যেখানে বিমান ভাড়া ছিলো এক লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা ২০২৬ সালের হজে এসে বিমান ভাড়া হয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এটাকে আরো কমানোর বিষয়ে আমি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম। আমরা গতবছর সরকারি মাধ্যমের হাজিদেরকে হজের খরচ নির্বাহ শেষে উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ এজেন্সির অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা যেটা সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএন হিসেবে পড়েছিল সেটা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে দিয়েছি। 

তিনি বলেন, গতবছর হজে সৌদি প্রান্তে হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সমন্বিত চিকিৎসক ব্যতীত ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাইরে কাউকে টিমে অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং টিম সদস্য সংখ্যাও ২০২৪ এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কমিয়েছিলাম। গতবছর সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজ নেওয়া হয়নি। এ বছরও কাউকে নেওয়া হবে না। 

২০২৫ সালের হজে তিনটি নতুন সেবা উদ্ভাবন করা হয় বলেও জানান উপদেষ্টা। সেগুলো হলো আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর 'লাব্বাইক' মোবাইল অ্যাপ চালু, মোবাইল ফোনে রোমিং সুবিধা দেওয়া ও হজ প্রি-পেইড কার্ড চালু। 

উপদেষ্টা বলেন, গতবছর আমাদের হজ প্যাকেজ ছিলো দুটি। এবছর আমাদের হজ প্যাকেজ তিনটি। এবছর সীমিত বা নির্দিষ্ট আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যাতে হজ করতে পারেন সেজন্য আমরা একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করেছি; মাত্র ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার হজ প্যাকেজ আমরা ঘোষণা করেছি। এবছর আমাদের হজের প্রস্তুতি আজ পর্যন্ত সন্তোষজনক। এরইমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, এবছর হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এরইমধ্যে আমরা কিছু সাফল্য অর্জন করেছি। হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস চার্জ সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ যোগাযোগের মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। প্যাকেজ-৩ এর হজযাত্রীদের মক্কায় আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা ছিলো হারাম শরীফের বহিরাঙ্গন থেকে ৬-৮ কিলোমিটারের মধ্যে। আজিজিয়া এলাকা থেকে হারাম শরীফ আসতে গেলে হাজিদেরকে দুইবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। এটা হাজিদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে-এই বিবেচনায় আমরা হজ প্যাকেজ-৩ এর হাজিদের জন্য বাড়িভাড়া করেছি হারাম শরীফ থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। এর ফলে হাজিদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে এবং তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরীফে আদায় করতে পারবেন।

‘২০২৫ সালের হজে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সে দেশের একটি মেডিকেল সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল হিসেবে একটি হেলথ সার্ভিস চুক্তি করা হয়েছিল। এবার হজে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নেগোসিয়েশন কুশলতার কারণে এই সেবাটি আমাদের দেশের সব হাজি বিনামূল্যে নিতে পারবেন। আমরা আশা করছি ২০২৬ এর হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীদেরকে তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারব’-যোগ করেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে