ধানের শীষের দূর্গ হিসেবে খ্যাত ময়মনসিংহ-৫, মুক্তাগাছা আসনে শেষ মূহূর্তে জমে উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। প্রার্থী-সমর্থকরা ছুটেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে চলছে শেষ মূহূর্তের হিসাব-নিকাশ। জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫, মুক্তাগাছা আসনে নির্বাচন করছেন মোট ৫ জন প্রার্থী। এরা হলেন বিএনপি থেকে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক উপজেলার কান্দিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জাকির হোসেন বাবলু (ধানের শীষ), একই এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্য জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলাম থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মুফতী সিরাজুল ইসলাম (মাথাল) এবং এবি পার্টি থেকে মোঃ রফিকুল ইসলাম (ঈগল)। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সঙসদ নির্বাচনে মযমনসিংহ-৫, মুক্তাগাছা আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৬১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৯১ হাজার ৫৬৩ জন, মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৫৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন। এই আসনে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৪। এবার এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন সাবেক জ্বালানী ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী, মুক্তাগাছা উপজেলার উন্নয়নের রূপকার, সর্বজন সমাদৃত নেতা এ.কে.এম মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই মোঃ জাকির হোসেন বাবলু। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি প্রার্থী হবার পর থেকে তার রাজনৈতিক পদচারণা শুরু হলেও মূলত মুক্তাগাছা ১৯৯৬ সাল থেকেই তিনি তার বড় ভাই এ,কে.এম মোশাররফ হোসেনের সাথে ছায়ার মতো থেকে মুক্তাগাছায় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। এ.কে.এম মোশাররফ হোসেন জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী থাকার ফলে মুক্তাগাছায় গ্যাস আনয়ন ছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে রাস্তা পাকা করণ, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার ব্যাপক উন্নয়ন করে দল-মতের উর্ধ্বে উঠে হাজার হাজার বেকারদের চাকরীর ব্যবস্থা করে নিজেকে একজন সার্বজনীন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এছাড়াও তার পারিবারিকভাবে তিনি এমপি হওয়ার পূর্বেই মুক্তাগাছায় শিক্ষার মান্নোয়নের জন্য তার পিতা মরহুম হাজী কাশেম আলীর নামে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও দাতব্য চিকিৎসা মিলে মানব কল্যাণে ১৭ টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন যা মুক্তাগাছার ইতিহাসে অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরিবার করতে সক্ষম হননি।এসব আলোচনায়ই মূলত মূলত বিএনপি প্রার্থী মোঃ জাকির হোসেন বাবলুকে জয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল। তাছাড়া মোঃ জাকির হোসেন বাবলু একজন মজলুম জননেতা হিসেবেও সমাদৃত হয়েছেন। বিগত সরকারের রোষানলে পরে জেল-জুলুমের শিকার হয়েও দমে যাননি। তিনি প্রতি শুক্র ও শনিবার উপজেলার প্রত্যেক গ্রামে পদাচারণা ছিল উল্লেখযোগ্য। বিগত করোনাকালে নিজ উদ্যোগে ও দলীয়ভাবে করোনার উপহার পৌঁছে দিয়েছেন মানুষের ঘরে ঘরে।সব মিলিয়ে বিএনপি প্রার্থীর জনপ্রিয়তা শুরু থেকে অদ্যাবদি বহাল রয়েছে বলে অভিমত জানান সাধারণ ভোটাররা। এদিকে জাতীয় পার্টির একাংশ সরাসরি বিএনপিতে যোগদান ও আরেকটি অংশ জাতীয় পার্টির (জি.এম কাদের) কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব, সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহম্মেদ মুক্তির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছেন। ধানের শীষের পক্ষে মাঠে ময়দানে কাজ করছে আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিবের জমিয়তে ওলামায়ের সাধারণ সম্পাদক মুফতী আকরাম হোসাইনের নেতৃত্বে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন কর্মী-সমর্থকরাও। বসে নেই ১১ দলীয় ঐক্য জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও। তিনি ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের পর মুক্তাগাছায় এ আসনের প্রার্থী হবার থেকে প্রতিনিয়ত মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামীলীগ মাঠে না থাকায় অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থার সৃষ্টিও হয়েছে। দিন দিন বাড়ছে কর্মী-সমর্থকরাও। সব মিলিয়ে জামায়াতের অবস্থা অন্যান্য বারের চেয়ে এবার অনেকটা সুবিধাজনক। এর মধ্যে এ আসনে মামুনুল হকের খেলাফত মজলিশ সমর্থন দেয়ায় এ দলের কর্মী-সমর্থকরাও দাড়িপাল্লার হয়ে মাঠে ময়দানে কাজ করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতী সিরাজুল ইসলাম (হাতপাখা) ও গণসংহতি আন্দোলন থেকে নজরুল ইসলাম (মাথাল)ও ছুটছেন ভোটরদের দ্বারে দ্বারে। এবি পার্টির রফিকুল ইসলাম (ঈগল) কাগজে-কলমে প্রার্থী হলেও তার প্রচারণা দেখা যায়নি।