রাত পোহালেই নির্বাচন—ভোটারদের উচ্ছ্বাস

এফএনএস সংবাদপ্রবাহ: | প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
রাত পোহালেই নির্বাচন—ভোটারদের উচ্ছ্বাস

আগামীকালই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে বহুল আলোচিত 'জুলাই গণ-সনদ' সংস্কারের ওপর গণভোট। ইতোমধ্যে নির্বাচন নিয়ে মানুষের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনার হাওয়া ভইছে। রাজধানী ছেড়ে ঘরমুখী হচ্ছেন লাখো মানুষ।

দীর্ঘদিন পর একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) আশা করছে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ হতে পারে। তবে উৎসবের আমেজ থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ইসি। 

এদিকে মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শেষ হওয়ার পর এখন চলছে কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনি সামগ্রী পৌঁছানোর কাজ। এদিকে ২৯৯ আসনে ব্যালট পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেছে ইসি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এক ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে প্রথমবারের মতো একই দিনে ব্যালটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে রায় দেবেন ভোটাররা।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ১৯ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

দুটি ভোট একই দিনে হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এবার এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। কাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট এবং গণভোটের জন্য গোলাপী ব্যালট ব্যবহার করা হবে। সারা দেশে ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকছেন, যারা নির্বাচনি অপরাধের জন্য তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়ার ক্ষমতা পাবেন। এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ৯৫ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। ২৯৯টি আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। ফলে মূল লড়াইটা সীমাবদ্ধ থাকছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। বিএনপি ২৯১টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছে। অন্যদিকে জামায়াত জোটের শরিকদের নিয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন ২২৮ জন, পাশাপাশি জোটের শরিক এনসিপি, এবি পার্টি এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

রাজধানীর আসনগুলোর দিকে নজর সবার। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের স. ম. খালিদুজ্জামান। অন্যদিকে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বিএনপির শফিকুল ইসলাম খানের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই লড়াইকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বস্তি এবং মেস এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে