রাত পোহালেই নির্বাচন: প্রস্তুত দেশ, প্রত্যাশায় ভোটাররা

এফএনএস ( মো: রাজিবুল ইসলাম রক্তিম; বগুড়া) : | প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
রাত পোহালেই নির্বাচন: প্রস্তুত দেশ, প্রত্যাশায় ভোটাররা

রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল। দীর্ঘ প্রচারণা, নানা প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস আর রাজনৈতিক উত্তাপের পর ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন। দেশের ৩০০টি আসনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক, নবীন নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নির্বাচনী মাঠে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে প্রচারণার ব্যস্ততা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ছুটে বেড়িয়েছেন গ্রাম থেকে গ্রাম, পাড়া থেকে পাড়া, বাজার থেকে চায়ের দোকান পর্যন্ত। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন, হাত মিলিয়েছেন, শুনেছেন অভাব-অভিযোগ। কেউ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কেউ কর্মসংস্থানের কথা বলেছেন, কেউ আবার দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার করেছেন। নগর ও গ্রামাঞ্চলের চিত্র ছিল ভিন্ন হলেও উৎসাহ ছিল সমান। কোথাও মাইকিং, কোথাও পোস্টার, ব্যানার আর লিফলেটে ছেয়ে গেছে এলাকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলেছে ব্যাপক প্রচারণা। তরুণ ভোটারদের টানতে ডিজিটাল কৌশল ব্যবহার করেছেন অনেক প্রার্থী। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার তারা আগের চেয়ে বেশি সচেতন। অনেকে বলছেন, তারা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের হিসাব দেখতে চান। স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতায়। ভোটকেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবে অতিরিক্ত নিরাপত্তা। পাশাপাশি মাঠে থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স, ভোটকক্ষ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা সবকিছুই প্রস্তুত। ইতোমধ্যে ভোটের সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের প্রশ্ন নয়, ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনাও দেবে। জনগণের অংশগ্রহণ, ভোটের হার ও পরিবেশ অনেক কিছু নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ। ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ আশাবাদী, কেউ আবার উদ্বিগ্ন। তবে বেশিরভাগ মানুষই চান শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে। তারা আশা করছেন, কোনো সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন শেষ হবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে আলাদা আগ্রহ। অনেকেই এবার প্রথমবার ভোট দেবেন। তাদের চোখে স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। তারা বলছেন, ভোট দিয়ে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চান। নারী ভোটারদের উপস্থিতিও এবার গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক নারী ভোটার বলছেন, তারা শিক্ষা, নিরাপত্তা ও নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রার্থীদের দিকে নজর দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব উত্তেজনা। রাত পোহালেই ব্যালট বাক্সে যাবে মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও সিদ্ধান্ত। আগামী দিনের সংসদ কেমন হবে, নেতৃত্ব কার হাতে যাবে-তা নির্ধারিত হবে ভোটের মাধ্যমেই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের অধিকার প্রয়োগের একটি বড় সুযোগ। শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে। সবাই এখন তাকিয়ে আছে আগামীকালের দিকে। ভোটারদের রায়ে গঠিত হবে নতুন সংসদ, নির্ধারিত হবে দেশের আগামী দিনের পথচলা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে