নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বুধবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, “বৃহস্পতিবারের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সারা দেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহ ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গণনা শেষে পরদিন সকালেই চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।”
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, “পোস্টাল ভোটের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হলেও পরবর্তী কার্যক্রমগুলো ম্যানুয়েল বা সনাতন পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এই ভোটগুলো প্রতিটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসন অনুসারে গণনা করা হবে। তবে এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে; ভোটের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে যে ব্যালটগুলো ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছাবে, কেবল সেগুলোই চূড়ান্ত গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর পরে আসা কোনো ব্যালট গ্রহণ করা হবে না।”
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ঘিরে তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এ ছাড়া বিগত গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে তিনি জানান যে, ইতিমধ্যে ৯ শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা নির্বাচনি এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দ্বৈত নাগরিকদের ভোটাধিকার এবং প্রার্থিতা নিয়ে সৃষ্ট আইনি ধোঁয়াশাও এই ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করেন তিনি। সানাউল্লাহ জানান, দ্বৈত নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সাংবিধানিক বা আইনি বাধা নেই, তারা ভোটার হিসেবে নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। তবে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল রেখে কেউ সংসদ সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন না। সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই অন্য দেশের নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করতে হবে।