আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরাজমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মবসন্ত্রাস এবং নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা-বিশেষ করে নারী, কন্যাশিশু, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা/আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও সহিংসতা প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে “নারীর মর্যাদা রক্ষা জোট”। স্মারকলিপিতে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনকে ঘিরে দেশে ইতোমধ্যেই সহিংসতা, ভয়ভীতি, উসকানি ও টার্গেটেড হামলার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নারী, কন্যাশিশু, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা/আদিবাসী জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ও বসতবাড়ি ধ্বংসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়-২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, ২০১৪ সালের অগ্নিসন্ত্রাস, ২০১৮ সালের নির্বাচনকেন্দ্রিক ভয়ভীতি ও টার্গেটেড হামলা এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন ঘিরে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতা প্রমাণ করে যে নির্বাচনকালীন সহিংসতা একটি কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এসব সহিংসতা কখনো রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের কৌশল হিসেবে, আবার কখনো নারী-শিশু ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে আতঙ্কিত ও দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নারীর মর্যাদা রক্ষা জোট আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, নির্বাচনকে ঘিরে আবারও নারী-শিশু, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা/আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবি ও সুপারিশসমূহ:
১. নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা/আদিবাসী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাসমূহে বিশেষ ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. সহিংস ‘হটস্পট’ এলাকায় আগাম গোয়েন্দা নজরদারি ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা।
৩. নারীবিদ্বেষী বক্তব্য, সাম্প্রদায়িক উসকানি ও ঘৃণামূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪. শান্তিপূর্ণ নাগরিক, নারী ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
৬. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান।
নারীর মর্যাদা রক্ষা জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, সময়োচিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং নারী-শিশু, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা/আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও সাধারণ নাগরিকদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করা যাবে।