রাজশাহীর বাঘায় ১৭ বছর পর ৭৫ বছর বয়সে লাঠিতে ভর করে ছেলের সহায়তায় এসে ভোট দিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বয়েজুল ইসলাম খান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাঘা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসে তিনি ভোট দেন।
বয়েজুল ইসলাম খান ছাতারী গ্রামের মরহুম ওসমান আলী খানের ছেলে। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে এবং ৯টি নাতী-নাতনী রয়েছে। তিনি দুই বার নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে। তিনি বর্তমানে শারীরকিভাবে অসুস্থ।
ছাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার বাবুল ইসলাম বলেন, বয়েজ চাচার মতো আর কোন ব্যক্তিকে এা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেনি। তবে বয়েজ চাচার মতো বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ২৭। এরমধ্যে পুরুষ ১ হাজার৬ এবং নারী ১ হাজার ২১।
এ আসনে মোট কেন্দ্র ১১৯টি। এরমধ্যে বাঘায় ৬১টি এবং চারঘাটে ৫৮টি। এরমধ্যে ছাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহৃত করা হয়েছে। এটিসহ ৪২টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এরসধ্যে বাঘায় ২৪টি এবং চারঘাটে ১৮টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৯ জন। এরমধ্যে নারী ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৬ এবং পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯১১।
বয়েজুল ইসলাম খানের মেজো ছেলে ফারুক হোসেন খান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি। আমার পিতা একজন রাজতৈনিক নেতা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। ভোটের কথা শুনে বাবা ঘরে বসে থাকতে পারেনি। বাবা আমাকে বারবার বুঝাতে চাচ্ছিলেন ভোট দিতে আসবেন। অবশেষে আমি ও আমার ছোট ভাই মিনহাজুল ইসলাম খান একটি ভ্যানে করে নিয়ে এসে ভোট দেয়ানো হয়েছে।
বয়েজুল ইসলাম খানের ছোট ছেলে মিনহাজুল ইসলাম খান বলেন, আগে কেন্দ্রে গেলে শুনতাম আমার ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বপ্নটা পূর্ন হলো। ১৭ বছর পর এবার কোনো বাধা ছাড়াই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছি। বাবাকে ভোট দেওয়ানো হয়েছে। দীর্ঘদিন পর নিজের হাতে ব্যালট পেপারে সিল মারলাম।
তরুন ভোটার সাব্বির হোসেন বলেন, আমি পারিবারিকভাবে শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত। সুষ্ঠু পরিবেশে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে ভাল লাগছে।
ছাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার রকি হোসেন বলেন, এ কেন্দ্রে কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভাল ভাবে ভোট গ্রহণ হয়। আমার সাথে আনসার সঙ্গে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, ভোটাররা সুষ্ঠু ও সুন্দর এবং নির্বিঘেœ ভোট প্রয়োগ করেন। বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯১ হাজার ৫৫ ভোট। শতকরা ৫৪ পয়েন্ট ২০ ভাগ।