কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে একটানা বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহণ। কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী- পাকুন্দিয়া) আসনে দুই উপজেলার ১৭০টি কেন্দ্রে ভোটারগণ তাদের ভোট প্রদান করেন। কোন কেন্দ্রে অপ্রীতিকর কোন ঘটনা পরিলক্ষিত হয়নি। ভোটারগণ সুশৃঙ্খল ভাবে কোন রকম বাধা বিপত্তিহীন নির্দিধায় ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে সরেজমিনে অন্তত ৩০টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ও তরুণ ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দুপুরে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বিকালের দিকে শেষ পর্যন্ত পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল থেকে নারী ভোটারদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দিতে দেখা যায়। বেলা ১১টার দিকে প্রখর রোদ্রে অনেক নারীভোটার ভোটের ধীরগতি নিয়ে অভিযোগ করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করলে তিনি জানান, অনেক নারী হিজাব নেকাব পড়ে ভোট দিতে এসেছেন। তাছাড়া অনেক বয়স্ক নারী ভোট দিতে তুলনামূলক সময় বেশি ব্যয় করছেন। একারণে নারী ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হয়েছে। কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া হাইস্কুল কেন্দ্রে নাতিকে সাথে নিয়ে শতোর্ধ মজর উদ্দিন ভোট দিতে আসেন। তিনি বলেন, শেষ কবে ভোট দিয়েছি মনে নেই। বাড়িতে ছেলেকে বলেছি এবার ভোট দিবো। তাই নাতি বকুল মিয়াকে সাথে নিয়ে ভোট দিতে এসেছি। মজর উদ্দিন উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের মুগদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নব্বই উর্ধ্ব রেজু মিয়া ভোট দিতে ভাইয়ের ছেলেকে সাথে নিয়ে পং মসূয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসেছেন, ভোট দিয়ে জানান, ১৭ বছর পর আবার এমপি নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। প্রায় শত বছরের রাবিয়া খাতুন জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা মাদ্রাসা কেন্দ্রে নাতি নাতনি ছেলের বউকে নিয়ে ভোট দিতে আসেছেন। দীর্ঘদিন পরে এমপি নির্বাচনে ভোট দিতে পারে তিনি খুবই আনন্দিত। ভোটে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়ীত্বে থাকা সেনা, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্যদের সার্বক্ষনিক কঠোর নজরদারী ছিলো। ভোটারগণ ভয়ভীতি হীন সুন্দর পরিবেশে আনন্দমুখর পরিবেশে তারা ভোট প্রদান করেন।