যে কারণে নীলফামারীর সংসদীয় আসন চারটিতেই বিএনপি প্রার্থীর পরাজয় হল। তাও আবার অনেক ভোটের ব্যবধানে।
নীলফামারী -১ আসনে ছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশ বিএনপি জোট প্রার্থী মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফন্দী। তিনি ছিলেন বিএনপি জোটের প্রার্থী। এলাকায় তেমন একটা পরিচিত ছিলেন না। দল তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় অনেক নেতাকর্মী মনোক্ষুন্ন। অথচ এ আসনে শাহরিন ইসলাম তুহিন প্রার্থী হলে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার সম্ভবনা ছিল।
নীলফামারী -২ আসনে অনেক আগ থেকেই বিএনপির মধ্যে চলে আসছিল দলীয় কোন্দোল। জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন নিয়ে ওই কোন্দোল আরো বেড়ে যায়। তাছাড়া এখানে বিএনপির মনোনীত ছিল এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল। তিনি ধানের শীষ নিয়ে এলাকায় কয়েক মাস পুর্ব থেকে সভা সমাবেশ করে আসছেন। শেষ সময়ে এখানে প্রার্থী হলেন শাহরিন ইসলাম তুহিন। ফলে বিএনপির মধ্যে আরো বেড়ে যায় দলীয় বিশৃঙ্খলা। যা প্রার্থী আঁচ করতে পারলেও ছিলেন ভোটের কারণে নিশ্চুপ। ভোটে বিএনপির একটি অংশ নিস্ক্রীয় ছিল। প্রার্থীর সামনে আসলেও তারা ভেতরে ছিল নিরব।
নীলফামারী-৩ আসন জলঢাকা। একই অবস্থা এ আসনেও ছিল। এখানে বিএনপির চরম দলীয় কোন্দোল ছিল। মনোনয়ন নিতে এখানে কয়েকজন নেতার দৌড়ঝাপ ছিল চোখে পড়ার মত। অবশেষ একজন মনোনীত হলেও ভোটের মাঠে নেতাকর্মী ছিল নিরব। ফলে আলহাজ্ব সৈয়দ আলীর জনসমর্থন থাকলেও নেতাকর্মীর প্রচারণা তেমন না থাকায় পরাজয়ের বোঝা মাথায় নিতে হল।
নীলফামারী -৪ আসন (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) । এ আসনেও বিএনপির দলীয় কোন্দোল রয়েছে অনেক আগ থেকে। তাছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল একজন। যদিও তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয় তারপরও তাকে লোকজন চিনতো বিএনপির লোক হিসেবে। দল এখানে মনোনীত করে আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকারকে। তিনি ভোটের মাঠ তেমন গরম করতে পারেননি। ফলে নিজেদের ভুলের কারণেই মেনে নিতে হল পরাজয়। তবে বিএনপির অনেকে বলছেন আমাদের জনসমর্থন ছিল অনেক। তাছাড়া বিএনপির এতো ভোটার থাকার পরেও আমরা কেন হেরে গেলাম। আমাদের বিএনপির ভোট গেল কোথায়। এমনি নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে নীলফামারীর সংসদীয় চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের পিছনে।