সংসদ নির্বাচন: ২১২ আসনে বিএনপি এবং ৭৭ আসনে জামায়াত জোটের জয়

এফএনএস সংবাদপ্রবাহ:
| আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম | প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
সংসদ নির্বাচন: ২১২ আসনে বিএনপি এবং ৭৭ আসনে জামায়াত জোটের জয়

বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফলও ঘোষণা করা হয়েছে। ২৯৯টি আসনের নির্বাচন হয়েছে তবে ত্রুটির জন্য চট্টগ্রামের ২টি আসনের ফলাফল ঘোষনা স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশনার। এবারের নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

ফলাফল ঘোষণায় সর্বোচ্চ বেশি আসন পেয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। মোট ২১২ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনে এগিয়ে রয়েছে জোটটি। এদিকে এরপরই অবস্থান করছে ১১ দলীয় জোট। এই জোট ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে। সুতরাং প্রাপ্ত তথ্য বলছে, প্রথম স্থানে বিএনপি থাকায় দলটির সরকার গঠনে আর বাঁধা থাকল না। বিরোধী দল হিসেবে থাকছেন ১১ দলীয় জোট।

নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায়  নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯৭টি আসনের দলভিত্তিক এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

দলভিত্তিক ফলাফলের বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে সচিব ২৯৭টি আসনের দলভিত্তিক যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেন, তাতে দেখা যায় এককভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়েছে। এছাড়াও, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি, খেলাফত মজলিস ১টি, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন।

এই হিসেবে জোটগত হিসেবে বিএনপি ও তার সমমনাদের আসন সংখ্যা ২১২ এবং জামায়াতে ইসলামী ও তার মিত্রদের আসন সংখ্যা ৭৭-এ দাঁড়িয়েছে।

গণভোটের ফলাফল সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বা ‘জুলাই চার্টার’ নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এতে বিপুল ভাবে এগিয়ে রয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোট।

গণভোটের রায়ের পরিসংখ্যান: ‘হ্যাঁ’ (পরিবর্তনের পক্ষে): ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ ভোট। ‘না’ (বিপক্ষে): ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ ভোট।

গণভোটের ফলাফল সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বা ‘জুলাই চার্টার’ নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলও জানান । 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসি সচিব জানান, “পার্লামেন্টারি ভোটের চেয়ে গণভোটের শতাংশ বেশি হওয়ার কারণ হলো, আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রামের দুটি আসনের সংসদীয় ফলাফল স্থগিত থাকলেও সেখানে গণভোটের গণনা যুক্ত হয়েছে।”

ফলাফল ঘোষণার সময় সচিব উল্লেখ করেন যে, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হলেও ২৯৭টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মাননীয় আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল আমরা প্রকাশ করছি না। তবে শেরপুর-২ আসনের ফলাফল দেয়া হয়েছে।’

গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব, ডাটা অ্যাভেইলেবল হওয়া মাত্রই আমরা গেজেট প্রকাশ করব। সেটা দুই ঘণ্টার মধ্যেও হতে পারে। তবে নির্ভুল তথ্যের স্বার্থে আমাদের যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গেল ১২টি নির্বাচনে ভোট পড়েছিল যথাক্রমে ৫৫%, ৫১.১২%, ৫৯.৫৮%, ৫৪.৯২%, ৫৫.৪৫%, ২৬.৫%, ৭৪.৯৬%, ৭৫.৫৯%, ৮৭.১৩%, ৪০.০৪%, ৮০.২০% এবং ৪১.৮%। সে হিসেবে এবারের নির্বাচনে প্রায় ২০ শতাংশ ভোট বেশি পড়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে