সুফল মিলছে না ই-গেটের, বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০৫ এএম
সুফল মিলছে না ই-গেটের, বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালুর পর যাত্রীসেবায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অংশ হিসেবে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে স্থাপন করা হয়েছিল ৪৪টি ই-গেট। উদ্দেশ্য ছিল মাত্র ১৮ সেকেন্ডে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা, যাতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে না হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব ই-গেট কার্যত অচল হয়ে আছে। যাত্রীদের প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে- এত বিপুল অর্থ ব্যয় করে এই প্রকল্প কেন করা হলো এবং এর সুফল কোথায় গেল। ২০১৯ সালে জার্মান সংস্থা ভেরিডোস জিএমবিএইচ-এর মাধ্যমে স্থাপিত ই-গেটগুলো কয়েকবার চালু ও বন্ধ করা হলেও বর্তমানে সেগুলো বন্ধ। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬টি, চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে ছয়টি, সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে ছয়টি, বেনাপোল স্থলবন্দরে চারটি এবং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে দুটি ই-গেট রয়েছে। স্থাপনের আগে বলা হয়েছিল, ই-গেট ব্যবহার করলে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ই-গেট ব্যবহার করলে বরং বিড়ম্বনা বাড়ে। কারণ ভিসা যাচাইসহ অন্যান্য কাজের জন্য আবার ইমিগ্রেশন ডেস্কে যেতে হয়। ফলে সময় দ্বিগুণ লাগে। যাত্রীরা বলছেন, ই-পাসপোর্ট এক সময় বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ছিল। ই-পাসপোর্ট করার আগে এই ই-গেট বসানো হয়েছে। দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি যে পাবলিকের টাকায় কেনা এসব ই-গেট ব্যবহার হচ্ছে না। আগে শুনেছি ই-পাসপোর্ট দিয়ে ১৮ সেকেন্ডে ইমিগ্রেশন শেষ হয়। কিন্তু বাস্তবে তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে এসেও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ই-গেট চালু থাকলেও তাদের ভিসা যাচাই করতে আবার ম্যানুয়ালি ইমিগ্রেশন ডেস্কে যেতে হয়। এতে সময় দ্বিগুণ লাগে। অনেক সময় সফটওয়্যারের ডেটা ইমিগ্রেশন সিস্টেমে আসে না। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। কাছাকাছি সময়ে একাধিক ফ্লাইট অবতরণ করলে বা গেলে ইমিগ্রেশনে আরও বেশি চাপ পড়ে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ই-গেট দিয়ে শুধু পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করা যায়। ভিসা ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ নেই। ফলে ই-গেট ব্যবহার করলেও আগের মতোই ভিসা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে ম্যানুয়ালি। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ই-গেট দিয়ে শুধু পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করা যায়। ভিসা ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ নেই। এ জন্য ই-গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে, বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, বহির্গমন এলাকায় দুটি এবং আগমনী এলাকায় দুটি ই-গেট চালু রয়েছে। সেখানে চারজন কর্মকর্তা কাজ করছেন। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, সেগুলোও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রথমে ধরা হয়েছিল চার হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রহস্যজনক কারণে ওই ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৯ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ই-গেট স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এত বিপুল অর্থ ব্যয় করেও যাত্রীদের প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, যা পাবলিকের টাকায় করা। যাত্রী যদি সেবা না পায় তবে এই গেট করা অর্থহীন। আগে চিন্তা করা উচিত ছিল। যেহেতু এখানে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, সরকারও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এই দায় এড়াতে পারে না। তিনি আরও বলেন, সিঙ্গাপুরসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই ডিজিটাল সেবাটি চালু রয়েছে। সেখানে জনবল নেই বললেই চলে। তাহলে আমাদের প্রতিবন্ধকতা কোথায়, তা খুঁজতে হবে। ই-গেট চালু থাকলে যাত্রী সেবার মান বাড়বে ও সময় বাঁচবে। ই-গেট দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তা পরবর্তীতে আর কাজে আসবে না। এছাড়া চালু করতে সরকারের পয়সা গুনতে হবে। তাই সরকার উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। বিশ্বের অনেক দেশেই ই-গেট প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার হচ্ছে। সিঙ্গাপুর, দুবাই, লন্ডন, হংকংসহ উন্নত দেশগুলোতে ই-গেট চালু রয়েছে। সেখানে যাত্রীদের পাসপোর্ট স্ক্যান করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা যাচাই হয়ে যায়। ফলে যাত্রীদের লাইনে দাঁড়াতে হয় না। বাংলাদেশে কেন তা সম্ভব হচ্ছে না, তা খুঁজে বের করতে হবে। যাত্রীদের প্রত্যাশা ছিল ই-গেট চালু হলে তাদের সময় বাঁচবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ই-গেট ব্যবহার করলে বরং সময় বেশি লাগে। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, ই-গেট চালু না থাকলে ম্যানুয়ালি ইমিগ্রেশন করতে হয়। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কারিগরি সমস্যার সমাধান করে ই-গেট চালু না করলে এই প্রকল্প পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যাবে। সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ই-গেটকে কার্যকর করা, যাতে যাত্রী সেবার মান বাড়ে এবং বিনিয়োগকৃত বিপুল অর্থ সার্থক হয়। ই-গেট চালু থাকলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে, সেবার মান বাড়বে এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। বাংলাদেশের ই-গেট প্রকল্প যাত্রীসেবায় কার্যকর হয়নি। বরং যাত্রীদের বিড়ম্বনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কারিগরি সমস্যার সমাধান করে ই-গেট চালু না করলে এই প্রকল্প পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যাবে। সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ই-গেটকে কার্যকর করা, যাতে যাত্রী সেবার মান বাড়ে এবং বিনিয়োগকৃত বিপুল অর্থ সার্থক হয়। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালুর পর যাত্রীসেবায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অংশ হিসেবে ই-গেট স্থাপন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীদের সময় বাঁচানো। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ই-গেট কার্যত অচল হয়ে আছে। যাত্রীদের প্রত্যাশিত সেবা না পাওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে- এত বিপুল অর্থ ব্যয় করে এই প্রকল্প কেন করা হলো এবং এর সুফল কোথায় গেল।