গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

কারচুপির অভিযোগে ফলাফল প্রত্যাখ্যান, ভোট পুনঃগণনার দাবি

এফএনএস (মোঃ শামিম উল হক শাহিন; গাইবান্ধা) : | প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
কারচুপির অভিযোগে ফলাফল প্রত্যাখ্যান, ভোট পুনঃগণনার দাবি

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কেন্দ্র দখল ও ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ এনে ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রহিম সরকার। একইসঙ্গে তিনি নির্দিষ্ট ৫টি কেন্দ্রে পুনঃভোট গ্রহণ এবং অবশিষ্ট সকল কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছেন।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই প্রার্থী আয়োজিত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নির্বাচনী এলাকায় নজির বিহীন অনিয়ম হয়েছে। নির্বাচনের দিন বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রবেশ করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয় এবং ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারে।

মো. আব্দুর রহিম সরকার ৫টি কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের বিবরণ তুলে ধরেন:  বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২০) কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ৬০-৭০ জন বহিরাগত ব্যালট ছিনতাই করে। কুমিরাডাঙ্গা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৪) কেন্দ্রে প্রায় ৮০-৯০ জন নেতাকর্মী প্রবেশ করে জোরপূর্বক জাল ভোট প্রদান করে। গোপালপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৫) কেন্দ্রে ৬৫-৭০ জন লোক প্রবেশ করে পোলিং অফিসারদের জিম্মি করে ব্যালট পেপারে সিল মারে। কোচারশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১০৫) কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যাপক হারে জাল ভোট প্রদান করা হয় এবং দামগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৭) কেন্দ্রে শতাধিক বহিরাগত কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষে সিল মারে। ভোট গণনার সময়ও ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন এই প্রার্থী। তিনি দাবি করেন, গণনার সময় অনেক কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১২০ টি ব্যালটকে ১০০টির বান্ডিল এবং ধানের শীষের ৮০টি ব্যালটকে ১০০টির বান্ডিল হিসেবে গণনা করা হয়েছে। এমনকি ধানের শীষের বান্ডিলে দাঁড়িপাল্লার ভোট ঢুকিয়ে গণনার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। একটি কেন্দ্রে ১,৮০০ ভোটের স্থলে ২,৮০০ ভোট দেখানো হয়েছে, যেখানে তার এজেন্টের স্বাক্ষর নেই। মো. আব্দুর রহিম সরকার বলেন, “অনিয়মের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এসব অনিয়মের স্থিরচিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আমাদের কাছে রয়েছে।” এমতাবস্থায়, তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি গাইবান্ধা-৪ আসনের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে উল্লেখিত ৫টি কেন্দ্রে পুনঃভোট এবং বাকি কেন্দ্রগুলোতে ভোট পুনঃগণনা করে সংশোধিত ফলাফল ঘোষণার জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জেলার ৫টি আসনের জামায়াত প্রার্থীর্ াসবাই উপস্থিত ছিলেন।