সদ্য সমাপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) থেকে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র সাবেক সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যরিস্টার রূমিন ফারহানা সাংবাদিকদের নির্বাচন ও প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করা এত সহজ নয়। নির্বাচন চলাকালে বিএনপি’র লোকাল লিডাররা অকারণে মানুষকে ভয় দেখিয়েছে। রাতে গিয়ে টাকা বিলি করেছে। ধামাউড়া দুবাজাইলের মত রিমোর্ট এলাকার সেন্টার গুলোতে গিয়ে ভোট ছাপিয়েছে। রাতে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল আটকে রেখেছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সরাইল সদরের উচালিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমি নিজেকে প্রবেশ করতে হয়েছে। সেখানে পাঁচবারের মত ভোট গণনা করতে বাধ্য হয়েছি। দেখা গেছে এতগুলো ভুয়া ভোট ভুয়া ব্যালট পেপারে দিয়েছে। এক পর্যায়ে সেখানকার বিএনপি’র লোকজন আমাকে মারতে গিয়েছিল। সেনা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ভূমিকা অনবদ্য। আমি তাদেরকে স্যালুট জানাই। সেনা বাহিনী যদি শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করতো। যদি নিপেক্ষতার সাথে তারা কোন দল ব্যক্তি না দেখে র্যাপিড এ্যাকশনে না যেত পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।
বিএনপি’র ভালো ফলাফল বিষয়ে তিনি বলেন, দল হউক আর ব্যক্তিই হউক। যারাই ভালো ফলাফল করেছেন, তাদেরকে আমি শুভেচ্ছা জানাই। আশা করব শপথ অনুয়ায়ী প্রত্যেকেই তার অবস্থান থেকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিক ভাবে পালন করবেন। ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরবেন কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে রূমিন ফারহানা বলেন, ঘরের মেয়ে? আমি তো ঘরের মেয়ে হলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। ঘরেই তো আছি। আমি যদি সিলেটে গিয়ে নির্বাচন করতাম তাহলে বলতেন আমি বাহিরে গেছি। দল সম্পর্কে বলেন, এখন তো আমার দল বলতে কিছু নেই। আমার দল তো আমাকে বহিস্কারই করে দিয়েছে। এটা তো আর আমার দল না। এটা তো এখন তারেক রহমান সাহেবের দল। দলগত ভাবে বিজয়ীদের তো ধন্যবাদই জানিয়েছি। শুভেচ্ছা জানাব কেন? এ আসনে ভোটের জয়টা আমার নয়, এই জয়টা আমার নির্বাচনী এলাকার পাঁচ লাখ ভোটারের জয়। নির্বাচন চলাকালে প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসন অসম্ভব ধরণের ভায়েস্ট ছিল। আমাদের প্রতি পদে পদে তারা থামানোর চেষ্টা করেছে। হেনস্তা করার চেষ্টা করেছে। ইভেন প্রশাসন ভোটের আগের দিন চেয়ারম্যানদের ডেকে নিয়ে বলেছেন, আপনারা (চেয়ারম্যানরা) তো আমাদের লোক। তাই একটু দেখে শুনে ভোট দিবেন। এভাবে পলিটিশিয়ানদের তাচ্ছিল্য করা এটা গত ১৫ বছরের সংস্কৃতি। কারণ প্রশাসনের উপর নির্ভর করে গত ১৫ বছর সরকার চলেছে। তখন কোন পলিটিশিয়ান নিজের জনপ্রিয়তায় জিতে আসতে পারে নাই। প্রশাসনের মজ্জায় ঢুকে গেছে যে, দে আর অল ইন অল। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এ প্রশাসন বুঝতে শুরূ করেছে যে, ‘মানুষ হচ্ছে অল ইন অল’। এখানে অন্তত এটা আমলে নিয়েই প্রশাসনকে কাজ করতে হবে। তাদেরকে মানতে হবে, সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। প্রশাসনের সকল খরচের টাকা আসে সাধারণ মানুষের আয় থেকে। এটা বুঝেই প্রশাসনকে কাজ করতে হবে। আর এলাকার জনগণের কাছে আমার অনেক প্রতিশ্রূতি আছে। সেই প্রতিশ্রূতি রক্ষা করতে আমার অনেক কাজ করতে হবে। সম্ভাবনাময় কাজ গুলোকে প্রথম প্রায়োরিটি দিতে হবে। সেই ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস কেন এই জেলার সকল মানুষ পাবে না? তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। উন্নয়নমুখী শিল্প গড়ে বেকারত্ব দূর করতে হবে। রূমিন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আপনি আমার দলে ফেরা নিয়ে এত চিন্তিত কেন? ‘অভিমান’ শব্দটি অনেক দামী। ভীষণ আপন ছাড়া অভিমান হয় না। বিরক্তি বা অসন্তোষ্টি থাকতে পারে। অভিমান কেন থাকবে। অভিমান শব্দটি যেখানে সেখানে ব্যবহার করা যায় না। দলের ব্যাপারে আমি বলব- দলের আন্দোলন ছিল, সংগ্রাম ছিল অধিকারের জন্য। ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনের জন্য। আমি সেই আন্দোলনের সাথে শরিক ছিলাম। কিন্তু গত ১৮ মাসে দলের কার্যক্রমে আমরা দেখেছি- কী করে মানুষের কাছ থেকে পয়সা আদায় করা যায়। কী করে জুলুম করা যায়, জমি দখল করা যায়, ব্যবসা দখল করা যায়, বালুর ব্যবসা করা যায়, কী করে দূর্নীতি করে পয়সা কামনা যায়। কী করে তদবির ও চাঁদাবাজি করা যায়। আপনি বা আপনারা কী চান আমি ওই গুলোরও সঙ্গী হবো। না নিশ্চয়। আমার রাজনীতি আমার। আর দলের রাজনীতি দলের। আগামীতে উনার সাবেক দল সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন তাদের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আশা করব তারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যে ভুল গুলো করেছে তার রিপিটেশন হবে না। গত দেড় বছর মানুষকে যেভাবে হয়রানি করেছেন তাও আর হবে না বলে আমি আশাবাদী।