দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের বিজয়ের মধ্যে দিয়ে হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল বারী। এই জয়ের মধ্য দিয়ে আসনটি আবারও বিএনপির দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে জানান দিলেন কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুরের মানুষ। নির্বাচনী সূত্রে জানা গেছে , ১৯৯১ থেকে ২০০১সাল পর্যন্ত আবু ইউসুফ মোঃ খলিলুর রহমান এই আসন থেকে টানা চারবার (১৯৯৬-সহ) বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমনকি ২০০৮ সালের কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণেও বিএনপির গোলাম মোস্তফা, আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে পরাজিত করে আসনটি ধরে রেখেছিলেন। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তা হাতছাড়া হয়েছিল। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ৫ই আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে পুনরায় জয়ের মাধ্যমে সেই হারানো গৌরব ফিরে পেল দলটি। গত ১২ফেব্রুয়ারী ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি মো. আব্দুল বারী (ধানের শীর্ষ) প্রতীকে ১,৫৮,০৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী পেয়েছেন ৯২,৫১৭ ভোট। নির্বাচনী পরবর্তী ১৪ ফেব্রুয়ারী শনিবার বিকেলে ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের এক সৌজন্যে সাক্ষাৎ কালে নব নির্বাচিত এমপি আব্দুল বারী বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছেন, তা আমি অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছি। কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুরের মানুষের উন্নয়ন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব। ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল মাসুদ আঞ্জুমান বলেন, এই বিজয় কেবল ধানের শীষের নয়, ক্ষেতলাল-কালাই-আক্কেলপুরের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের বিজয়। গত দেড় দশকে এই অঞ্চলের মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নিতে পারেনি। আজ ব্যালটের মাধ্যমে তারা স্বৈরাচার ও অন্যায়ের জবাব দিয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এই জয় তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত করবে।