নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের নব-নির্বাচিত এমপি বিএনপির ফজলে হুদা বাবুল তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মাহফুজুর রহমানের বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় করায় স্থানীয় জনতার প্রশংসায় ভাঁসছেন। বিষয়টিকে দল মত নির্বিশেষে সকলে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক মহৎ দৃষ্টান্ত বলেই দেখছেন। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হবার পর গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১০টার দিকে ফজলে হুদা বাবুল মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে মাওলানা মাহফুজুর রহমানের বাড়িতে যান। সেখানে তাদের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে উভয়ে উভয়কে মিষ্টি মুখ করান। এসময় এমপির সাথে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা ভিপি এনামুল, ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহেল কাফি ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এবার নওগাঁ-৩ আসনে আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নওগাঁ জেলা রিটার্নিং অফিসারের দেয়া বেসরকারি ফলাফলে এদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে এক লক্ষ ৬৬ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান এক লক্ষ ১৯ হাজার ৪২১ ভোট। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্দ্র) প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি কলস প্রতীকে ১৭ হাজার ১২৯ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাসুদ রানা লাঙ্গল প্রতীকে চার হাজার ৮৬৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নাছির বিন আছগর হাতপাখা প্রতীকে তিন হাজার ৬৪৩ ভোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের প্রার্থী কালিপদ সরকার মই প্রতীকে এক হাজার ২৩৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন জাহাজ প্রতীকে ৮২৩ ভোট ও বাংলদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট বিএনএফ এর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত টেলিভিশন প্রতীকে ১৯৫ ভোট পান। এই আসনে মোট ভোটার চার লক্ষ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন। ভোট দিয়েছেন ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৯৬৭ জন। এর মধ্যে নানা কারণে ৭ হাজার ৭৬৫ ভোট বাতিল হয়। বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য ছয় জন প্রার্থীই জামানত হারান।
নব-নির্বাচিত এমপি ফজলে হুদা বাবুলের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের সত্যপাড়া গ্রামে। তার পিতা নিহাল উদ্দিন আকন্দ ও মাতা দিলরুবা বেগম। তিনি ১৯৭৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বর্তমান পেশা কৃষিকাজ। এরআগে তিনি ঢাকার আকিজ লজিষ্টিকস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে চাকরিরত ছিলেন। তিনি তার গ্রামের বাড়ি বৈকন্ঠপুর হাইস্কুলে নবম শ্রেণি পর্যন্ত, বিজলী কোলা হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা সিটি কলেজ থেকে কমার্স গ্রুপে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। বর্তমানে দেশের একজন ট্যকশো ব্যক্তিত্ব ফজলে হুদা বাবুল ছাত্রাবস্থায় বিটিভিতে কয়েকবার বিতর্ক প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। তিনি কবি জসীম উদ্দিন হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে ফজলে হুদা বাবুল ফাবি সুমাইয়া হুদা নামে এক মেয়ে ও ফজলে আল আলা নামে এক ছেলে সন্তানের জনক। তার স্ত্রী মনিরা সুলতানা পেশায় গৃহিণী। তিনি ২০১৪ সালে বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। এখনো সে পদে বহাল আছেন। এছাড়া তিনি নওগাঁ জেলা বিএনপির সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ফ্যাসিবাদের আমলে তিনি দুইটি মামলার আসামী হয়ে হাজত বাস করেন। এরমধ্যে একটি মামলায় খালাস পেয়েছেন। আর অপরটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে।