সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিএনপির সাবেক ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহবায়ক আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী এই সংসদ সদস্যকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর মন্ত্রী পরিষদে চায় গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ, পুবাইল ও বাড়ীয়া) আসনের মানুষ।
একেএম ফজলুল হক মিলন ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথ কাঁপানো নেতার অন্যতম একজন। কেন্দ্রীয় এই নেতা হাসিনা সরকারের আমলে ১১ বার কারাগারে গিয়েছিলেন। ফজলুল হক মিলন কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মা মৃত্যুবরণ করেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় মিলনের স্ত্রী শম্পা হক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক মিছিল সভা করে ৪ বার আওয়ামীলীগের আক্রমণে আহত হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের একমাত্র বিএনপির এমপি ছিলেন ফজলুল হক মিলন। কালীগঞ্জে আওয়ামীলীগ সরকার একাধিকবার প্রতিমন্ত্রী দিয়েছেন। তাই বিএনপির নির্যাতিত কেন্দ্রীয় নেতা একেএম ফজলুল হক মিলনকে বিএনপি সরকারের প্রথম একজনকে মন্ত্রী পরিষদে চায় কালীগঞ্জের মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় বিএনপি ও কৃষক শ্রমিক দিনমজুর সহ কালীগঞ্জের আপামর নাগরিক একেএম ফজলুল হক মিলনকে পুর্নমন্ত্রী হিসেবে দাবি রাখেন। কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কালীগঞ্জের নাগরিক সমাজের দাবি মন্ত্রীসভায় একেএম ফজলুল হক মিলনকে স্থান দিয়ে জেলাবাসীকে যেন যথাযথভাবে সম্মানিত করা হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. মনির উদ্দিন পাঠান (মিঠু) বলেন, রাজধানীর পার্শ¦বর্তী জেলা গাজীপুর। সব সরকারের আমলেই এ জেলায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হয়ে থাকেন। একেএম ফজলুল হক মিলন বার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাকে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী সভায় স্থান দিলে তার অভিজ্ঞতা দিয়ে মন্ত্রী পরিষদে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবেন।
গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, বিপুল ভোটে বিজয়ী একেএম ফজলুল হক মিলন গাজীপুরে বয়োজেষ্ঠ পরিচ্ছন্ন ও পরিক্ষিত রাজনীতিবিদ। তিনি আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে জেলা বিএনপিকে আগলে রেখেছিলেন। তার মতো একজন সৎ, দক্ষ, পরিক্ষিত ও যোগ্য নেতাকে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী করা এখন সময়ের দাবি।
কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফর রহমান বলেন, একেএম ফজলুল হক মিলন শিক্ষাযোগ্যতায় ও রাজনৈতিক দিক থেকে অনেক বিজ্ঞ একজন মানুষ। তাকে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী করা হলে দেশ ও জাতীর উন্নতি হবে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু বলেন, একেএম ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রী বানালে গাজীপুর-৫ কালীগঞ্জের মানুষকে সম্মান দেওয়া হবে। একেএম ফজলুল হক মিলনকে নতুন মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলে কালীগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। একেএম ফজলুল হক মিলন যেভাবে মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন তা আরো ত্বরান্বিত হবে।
গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু বলেন, একেএম ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রী করলে কালীগঞ্জের অনেক উন্নয়ন হবে। তিনি তার সততা মেধা দিয়ে কালীগঞ্জকে এগিয়ে নেবেন। দেশের মানুষের মৌলিক উন্নয়ন বেগবান করতে একেএম ফজলুল হক মিলনকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়া প্রয়োজন। একেএম ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নতুন সরকারের কাছে দাবি জানাই।