খুলনা-৬ আসনে ব্যাপকহারে সনাতনী ভোট পেয়েও চুড়ান্ত বিজয়ের স্বাদ পায়নি বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। সুন্দরবন সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে ২৬ হাজার ১৪ ভোটের ব্যবধানে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাও. আবুল কালাম আজাদ। চুড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট। নিকটতম মনিরুল হাসান বাপ্পী পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট। ১২ ফেব্রুয়ারী খুলনা-৬(পাইকগাছা ও কয়রা) ১৫৫টি কেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে দিনভর তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেন। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে সনাতনী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল এবারের নির্বাচনে। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩১ জন। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে। নির্বাচনে সনাতনী এলাকার কেন্দ্র গুলোতে বিএনপির মনিরুল হাসান এগিয়ে থাকলেও অন্যান্য কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে যায় জামায়াতের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। এ আসনে জামায়াতের এ পর্যন্ত ৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আবুল কালামের আগে সংগঠনের অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস ১৯৯১ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ কারণে এখানে জামায়াতের প্রচুর কর্মী সমর্থক রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি দীর্ঘদিন এ আসনে ক্ষমতার বাইরে ছিল। এজন্য এ আসনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বিএনপি ও জামায়াতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ আসনে অন্য ৩ প্রার্থীর কেউ ৩ হাজার ভোট পূর্ণ করতে পারায় জামানত হারান। ভোটাররা দুই দিকে ঝুকে পড়ায় তাদের চরম ভরাডুবি হয়েছে এ নির্বাচনে। ইসলামি আন্দোলনের আসাদুল্লাহ আল গালিব হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৮ ভোট, জাতীয় পার্টি মনোনীত মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৬৭২ এবং কমিউনিস্ট পার্টির এডভোকেট প্রশান্ত কুমার মন্ডল কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ ভোট। নির্বাচনে জয়লাভের পর সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। অপরদিকে ভেঙ্গে না পড়ার আহবান জানিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশে থাকার কথা বলেছেন বিএনপির মনিরুল হাসান বাপ্পী। নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, এ আসনটিতে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৮টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যথাক্রমে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স.ম বাবর আলী, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে বিএনপির এ্যাড. শেখ রাজ্জাক আলী নির্বাচিত হন। এরপর সীমানা পরিবর্তনের পর ১৯৮৬ সালের ৭ মে নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মোমিন উদ্দিন, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জহুরুল হক, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে আসনটি শূণ্য থাকে। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ মো: নূরুল হক, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জামায়াতের শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ্যাড. সোহরাব আলী সানা নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা যথাক্রমে প্রয়াত এ্যাড. শেখ মো: নূরল হক, আক্তারুজ্জামান বাবু ও সর্বশেষ মো: রশীদুজ্জামান নির্বাচিত হন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও খুলনা জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল বাকী প্রশংসিত হয়েছেন সাধারণ ভোটারদের কাছে।