বিএনপি–আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ভেঙে বাগমারায় জামায়াতের জয়

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
বিএনপি–আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ভেঙে বাগমারায় জামায়াতের জয়
৫৫, রাজশাহী–৪, বাগমারা আসনে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক বলয় ভেঙে এবার ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির প্রার্থী ডাঃ আব্দুল বারী সরদার বিজয়ী হয়ে স্বাধীনতার পর থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছেন। স্থানীয় রাজনীতি ছাড়িয়ে এ ফলাফল জাতীয় অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ফল নির্ধারণ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় দুটি শক্তিশালী দলের মধ্যে—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া এবং জামায়াতের প্রার্থী ডাঃ আব্দুল বারী সরদারের মধ্যে। শুরু থেকেই ভোটের মাঠে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। সবশেষ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার চুড়ান্ত ফলাফল শীট অনুযায়ী পোষ্টাল ভোটসহ জামায়াতের প্রার্থী ডাঃ আব্দুল বারী সরদার পান ১ লক্ষ পনেরো হাজার দুইশত ছাব্বিশ ভোট এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া পান ১ লক্ষ নয় হাজার চারশত একষট্রি ভোট। প্রায় পাঁচ হাজার সাতশত পঁয়ষট্টি ভোটের ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত হয় জামায়াত প্রার্থীর। ফলাফল ঘোষণার পর বাগমারার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় দলীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর আসনটিতে ভিন্নধারার রাজনৈতিক শক্তির উত্থানে সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। অতীত নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার পর থেকেই বাগমারা আসনটি মূলত বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সরদার আমজাদ হোসেন এমপি নির্বাচিত হন। সে সময় জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল আহাদ কবিরাজ অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি মনোনীত সাবেক আমলা (সচিব) আবু হেনা এমপি নির্বাচিত হয়ে দলটির অবস্থান সুদৃঢ় করেন। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ বিজয়ী হয়ে আসনটি দলটির দখলে রাখেন। যদিও ২০০৮ সালের পর প্রতিটি নির্বাচনই বিতর্কিত ছিল। দীর্ঘদিনের এ দ্বি-দলীয় আধিপত্য ভেঙে ২০২৬ সালে এসে জামায়াতের বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সক্রিয়তা, স্থানীয় ইস্যুকেন্দ্রিক প্রচারণা, পেশাজীবী প্রার্থী ইমেজ এবং ভোটারদের পরিবর্তনমুখী মনোভাব—এই ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ভোটব্যাংক পুনর্গঠন, তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্লান্তি—এসব বিষয়ও ফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সব মিলিয়ে, বাগমারা আসনের এ নির্বাচনী ফলাফল শুধু একটি আসনের বিজয় নয়; বরং স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তনের প্রতীকী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে