সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির এমপিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:১৬ এএম
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির এমপিরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর নবনির্বাচিতরা। তবে একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি তারা। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি এখনো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাই এ শপথ নেওয়ার সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বিএনপির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানের আগে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

হাতে একটি ফর্ম দেখিয়ে তিনি বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন, সেটা বিধান করতে হবে। কোনো এরকম ফর্ম সংবিধানে নেই।”

তিনি আরও বলেন, “এই ফর্মটি তৃতীয় তফসিলে আছে, সাদাটা। এই রকম তখন একটা ফর্ম সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে তখন জাতীয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে বিধায় আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে এই পর্যন্ত আমরা এসেছি।”

দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলছি, সামনের দিনেও চলবো।”

এর আগে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা প্রথমে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে এই পরিষদের ওপর।

তবে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট, বিষয়টি আগে সংবিধানে সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত করতে হবে। কে শপথ পাঠ করাবেন, সেটিও নির্ধারণ করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ না হলে পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রশ্নই আসে না বলে দলটি মনে করছে।

শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ডান পাশে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বাম পাশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আন্দালিভ রহমান পার্থসহ অন্য নেতারা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে শপথ পাঠ করে তারা বলেন, “সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি, তাহা আইন-অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব এবং সংসদ-সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।”

পরে সবাই নিজ নিজ আসনের নাম লিখে শপথপত্রে সই করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে