নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর ঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেন তারেক রহমানসহ দলটির এমপিরা। শপথের পর তাঁরা শপথপত্রে সই করেন।। শপথের পর সব নজর এখন তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভা ঘিরে। আকারে ছোট, অভিজ্ঞ ও নবীনের মিশেলে একটি টিম গঠনের আভাস মিলছে দলীয় সূত্রে।
শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআনের সুরা আন নাহলের ৯১ নম্বর আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে। রেওয়াজ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সদস্যদের শপথ আগে পড়ানো হয়।
দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মিলিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৪০ জনের কাছাকাছি থাকতে পারে। আবার বিবিসি বাংলা জানায়, মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৩০ এর নিচে নামিয়ে আনার কথাও ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে ৪৩টি মন্ত্রণালয় থাকলেও কয়েকটি একীভূত করে কাঠামো ছোট করার আলোচনা রয়েছে। এতে কাজের গতি ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করছে দলটি, বিবিসি বাংলা প্রতিবেদনে বলা হয়।
শপথের দিন সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। পরে বিকেলে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শপথ পড়াবেন বলে বিবিসি বাংলা জানায়।
নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদর নামও শোনা যাচ্ছে।
তরুণ নেতৃত্বের অংশ হিসেবে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ইশরাক হোসেনের মতো নেতাদের প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
তবে সরকার গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একান্তই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “কে কোন দায়িত্বে থাকবেন, সেটি চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত। শপথের পরই পরিষ্কার হবে।”
সংসদকে সক্রিয় রাখতে উপনেতা পদেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ দায়িত্বে মির্জা ফখরুলের নাম শোনা গেলেও তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা আকারে সংযত, কাঠামোয় পুনর্বিন্যস্ত এবং অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে বলে আভাস মিলছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে নতুন সরকারের প্রকৃত রূপরেখা।