নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, শপথের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথও সম্পন্ন হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মাথায় ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর ড. খলিলুর রহমানকে উপদেষ্টার মর্যাদায় রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
ড. খলিলুর রহমান ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস, পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট থেকে এমএ ইন ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি ও অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তাকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বদলি করা হয়। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং স্বল্পোন্নত দেশসমূহের মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘ সচিবালয়ে যোগ দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ছিল জাতিসংঘ মহাসচিবের নির্বাহী দপ্তরে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রধানসহ একাধিক দায়িত্ব।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের অভিজ্ঞতার কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে দেখা যেতে পারে। এক সূত্রের ভাষ্য, “আমি যতটুকু জানি, তিনিই হচ্ছেন দেশের পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শপথ হওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।”
নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পরই দফতর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।