ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শতভাগ পারফেক্ট না হলেও ফ্রী, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল নির্বাচন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনের জোট ভয়েস নেটওয়ার্ক। সোমবার ডিআরইউ’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনের জোট ভয়েস নেটওয়ার্ক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়এর অধ্যাপক ড. জসিমউদ্দীন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কোন নির্বাচন শতভাগ পারফেক্ট হতে পারে না তবে এই নির্বাচন ফ্রী, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল নির্বাচন হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও সুন্দর নির্বাচন কিভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে তা আমাদের পর্যবেক্ষণের আলোকে কমিশনকে অবহিত করবো। অধ্যাপক জসিমউদ্দীন বলেন, বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পেরে জনগণ সুন্দরভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। সেজন্য নির্বাচন কমিশন ধন্যবাদ জানান তিনি। অনুষ্ঠানে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ভয়েস নেটওয়ার্কের নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ এর সিইও এনায়েত হোসেন জাকারিয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থা সম্মিলিতভাবে ভয়েস নেটওয়ার্কের এ প্রতিবেদন তৈরি করে। তারা সম্মিলিতভাবে ১০৬৯ জন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সর্বমোট ১১০টি আসনের ৩৫৪১টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে। এরমধ্যে ১০০৮টি ভোট গণনা অবধি পর্যবেক্ষণ করে। পর্যবেক্ষন করা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৭ শতাংশ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের কেন্দ্রে প্রবেশ এবং পর্যবেক্ষণে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটে। পর্যবেক্ষকদের আইডি কার্ড এবং অনুমোদন পেতে বিলম্ব হয়েছে যা পর্যবেক্ষণের কাজে বিঘ্নিত করেছে। ৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্র বাইরে থেকে শনাক্ত করার করার মত অবস্থা ছিল না। ১১ শতাংশ কেন্দ্র ভবনের উপরের তলায় হওয়ায় প্রবীণ, অসুস্থ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম নয় এমন ভোটারদের যাতায়াতের ব্যবস্থা ছিল না। গর্ভবতী নারীর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না ২০ শতাংশ কেন্দ্রে। ১১ শতাংশ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি দেখা যায়নি। ফলে অনিরাপদ পরিস্থিতিতে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার আয়োজন ছিল না। ১৫.৫ শতাংশ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৪ শতাংশ কেন্দ্রে একটি পক্ষের পোলিং এজেন্ট ছিল না। ঢাকা-৮ আসনের একাধিক কেন্দ্রে একপক্ষের বিরুদ্ধে অন্য পক্ষের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লা-১০ পোলিং এজেন্টকে উঠিয়ে নিয়ে মারধরের অভিযোগ এসেছে। ভোলা-২ এবং ৪, ঢাকা-৪, গাজীপুর-৩, বাগেরহাট-৪, ফরিদপুর-২, নরসিংদী-৩, চট্টগ্রাম-১২, নোয়াখালী-৬ লক্ষীপুর-২ এবং ৩, সিরাজগঞ্জ-২ আসনগুলোতে একই রকমের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। শেরপুর-১ আসনে শতাধিক সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধার হয়েছে। ৮ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারদের পরিচয় যাচাই না করেই ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে অনেকের ভোট আগেই গ্রহণ করা হয়ে গেছে। ৪ শতাংশ কেন্দ্রে জালভোট দেওয়া হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ৫.৮ শতাংশ কেন্দ্রে এসে ভোটাররা হুমকি বা ভয়ভীতি পেয়ে ভোট না দিয়ে ফিরে গেছেন। প্রতিবেদনে নির্বাচন পূর্ব ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয় এই ধরনের ঘটনা ভালো নির্বাচনকে ম্লান করে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন ভয়েস নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব একরামুল হক সায়েম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভয়েস নেটওয়ার্কের রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর বুরহান উদ্দিন,হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির সিইও ইজাজুল ইসলাম ও বাকেরগঞ্জ ফোরামের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর শাহ আলম হাওলাদার।