লক্ষ্ণীপুর-৩ আসন থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি মন্ত্রী হওয়ার খবরে লক্ষ্ণীপুরে মিষ্টি বিতরণ, নিরব আনন্দ-উল্লাস পালন করেছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আনন্দ মিছিল করে না করলেও খুশীতে বিভিন্ন শ্রেণি মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
এ্যানীর মন্ত্রী হওয়ার খবরে লক্ষ্ণীপুর জুড়ে দেখা দিয়েছে নিরব আনন্দের আমেজ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের প্রত্যাশার কথা জানান।
তাদের আশা নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এবং লক্ষ্ণীপুরে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটবে।
লক্ষ্ণীপুর পৌর শহরের ব্যবসায়ী শাহীন মুন্সি বলেন, এ্যানি সাহেবের মন্ত্রী হওয়া আমাদের জন্য গর্বের। আমরা আশা করি, লক্ষ্ণীপুরের নদীভাঙন রোধ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষক নুর নাহার বেগম বলেন, লক্ষ্ণীপুর -৩ আসন থেকে এ নিয়ে তিনবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি এলাকার সমস্যাগুলো ভালো জানেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে জেলার দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।
গৃহিনী রাশেদা বেগম বলেন, এ্যানী চৌধুরী লক্ষ্ণীপুরে আসনে জয়লাভ করে মন্ত্রী হওয়ায় আমরা খুশি। আমাদের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।
মদিনউল্লাহ্ হাউজিংয়ের বাসিন্দা ইফপ্তি আক্তার বলেন, আমাদের এলাকায় নিয়মিত গ্যাস থাকে না। রান্নার সময় চুলায় ঠিকমতো আগুন জ্বলে না, এতে করে দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বোতল গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু বোতল গ্যাসের দামও বেড়ে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আমাদের মতো সাধারণ পরিবারের জন্য অনেক কষ্টকর। আমরা চাই, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে ঠিকমতো রান্নাবান্না করে পরিবারের সদস্যদের খাবার দিতে পারি।
অন্য এক গৃহিণী বলেন,দুই দিক থেকেই আমরা বিপদে আছি। একদিকে লাইনের গ্যাস নেই, অন্যদিকে সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, গ্যাসের চাপ এত কম থাকে যে ভোরবেলা বা গভীর রাতে রান্না করতে হয়। এটি খুবই দুর্ভোগের। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কষ্ট আরও বাড়বে।
তরুণ সংগঠক শাকিল নাফি বলেন,নদী রক্ষা, খাল পুনঃখনন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।
এদিকে ১৭ ফেব্রুয়ারী এ্যানী মন্ত্রী হওয়ার খবর লক্ষ্ণীপুরজুড়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।