আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আ’লীগের ঘাঁটিতে বিএনপির হানা। রাজশাহী-৫(পুঠিয়া-দুর্গাপুর) এ আসনে হুসেন মোহাম্মদ এরশাদ ৯০ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ১৯৯১-৯৬ সালে বিএনপি ক্ষমতা আসে কিন্তু রাজশাহী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক এমপি হন। এরপর বিএনপি ১৯৯৬ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে প্রয়াত এডভোকেট নাদিম মোস্তফা বিএমপির দুর্গ গড়ে তুলে ছিলেন। এই দশ বছর বিএমপির এমপি নাদিম মোস্তফার একক আধিপত্য ছিল। এরপর আ’লীগের আব্দুল ওয়াদুদ দারা ২০০৮ সাল হতে ২০১৮ পর্যন্ত পরপর দুইবার এমপি ছিলেন। এ আসনে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আ’লীগের এমপি ছিলেন ডা মনসুর রহমান। পরবর্তীতে দ্বাদশ নির্বাচনে আব্দুল ওয়াদুদ দারা নির্বাচিত হয়। ২০০৮ সালে তখন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম দারার সঙ্গে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পরও গত ফ্যাসিষ্ট সরকার তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৭ বছরে ধরে আ’লীগ এ আসনে একক ভাবে রাজনীতির প্রভাব বিস্তার করে রেখে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সংসদ সদস্য ১ লাখ ৫২ হাজার ৬শত ৭৭ ভোট পেয়ে (এমপি) হয়েছেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। অবশ্য সে এর আগে বিএনপি হতে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তার পরিবার বিএনপির জন্ম লগ্ন হতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে রয়েছেন। (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) এ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। অধ্যাপক নজরুল ইললামকে বিএনপির নমিনেশন দেওয়ার পরও বিএনপির দুইজন স্বতস্ত্র প্রার্থী ধানের শীষের বিরুদ্ধে ভোট করেছেন। ধানের শীষের বিরুদ্ধে একজন ঘোড়া মার্কা প্রতীক নিয়ে ২৩ হাজার ৯৪টি ভোট পেয়েছেন। আর অপরজন ফুটবল মার্কা প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৬ হাজার ৩শত ৮৬টি। আর জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন মাত্র একজন। সে ভোট পেয়েছে ৭২ হাজার ৫শত ৩৫টি। ধানের শীষের প্রাথী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতস্ত্র প্রার্থী থাকায়,কোণঠানা হয়ে পড়ার উপক্রম হয়ে ছিলেন। ফ্যাসিষ্ট সরকার পতনের পর বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যারা ছিলেন। তাদের ভিতর দুই/একজন নেতা বাদে নির্বাচনীয় এলাকায় জোরপূর্বক টাকা আদায় করা, কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে রাতের-আধাঁর তাদের পুকুরের মাছ লুট করা, মব করে জোরপূর্বক টাকা আদায়,মিথ্যা মামলা করার হুমকি দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠে ছিল। বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের আত্মীয়স্বজন কিংবা কর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে বিভিন্নভাবে নাজেহালের শিকার হতে হয়েছেন নির্বাচনীয় এলাকার মানুষদের। নজরুল ইসলাম মন্ডল বিএনপির প্রার্থীতা বাতিল করার জন্য লুটপাটকারী নেতাদের কুটকৌশলে মহাসড়ক পর্যন্ত অবোধ করে রাখা হয়ে ছিল। যারা বিরোধিতা করছেন তাদের বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা সরকার পতনের পর বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। নজরুল ইসলাম মন্ডল নমিনেশন পাওয়ার পর অপকর্মকারীরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়া শুরু করেন। ভোটের কয়েকদিন আগে সাধারণ ভোটার এবং সংখ্যালঘু পরিবারগুলো দেখলেন অন্য প্রার্থী ভোটে বিজয়ী হলে এলাকার বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। অধ্যাপক নজরুল ইসলাম একজন সৎ নিষ্ঠাবান যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলে আ’লীগসহ বিভিন্নমতের মানুষ নির্বাচনীয় এলাকায় শান্তিতে বসবাস করা সম্ভব হবে। সে এবং তার নেতাকর্মীরা সরকার পতনের পর কোনো প্রকার অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। অপরদিকে নজরুল ইসলাম একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং ত্যাগিনেতা। তারপর সে তিনবার বিএনপি দল হতে প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠে লড়ছেন। তাই নির্বাচলনীয় এলাকার মানুষ দলবল নির্বিশেষে তাকে ভোট দিয়েছেন।