নওগাঁ-৩ আসনে

প্রতিকুলতা ডিঙ্গিয়ে বিজয় ছিনিয়ে চমক দেখালেন ফজলে হুদা

এফএনএস (রওশন জাহান; মহাদেবপুর, নওগাঁ) : | প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
প্রতিকুলতা ডিঙ্গিয়ে বিজয় ছিনিয়ে চমক দেখালেন ফজলে হুদা

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে এবার চরম প্রতিকুল পরিস্থিতি রাজনৈতিক কুটকৌশল আর সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত ভূমিধ্বস বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে দারুণ চমক দেখালেন বিএনপির ফজলে হুদা বাবুল। অপর সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বিকে ডিঙ্গিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৪৭ হাজার ৪৬৮ ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন জামায়াতের মাওলানা মাহফুজুর রহমান। জামায়াত ছাড়া অপর ছয় জন প্রার্থীর কেউই জামানত বাজেয়াপ্ত না হবার মত ভোট পাননি। তার এই বিজয়ে শুরু থেকেই নেপথ্যে মনস্তাত্ত্বিক কারিশমা দেখিয়ে মাঠে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেছে নির্বাচনের সময় গঠন করা কৌশলী সংগঠন মহাদেবপুর ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠী। তাই নতুন এমপির সাথে এখন মহাদেবপুরে আলোচনায় রয়েছেন ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠী গঠনের কর্ণধার মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নু।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীতা ঘোষণা করে গতবছর ৩ নভেম্বর। নওগাঁ-৩ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুলকে। পরদিন সন্ধ্যায় তিনি মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে প্রচার প্রচারণায় সহযোগীতা কামনা করেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেটও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। ২০১৮ এর নির্বাচনে এই আসনে সাবেক ডেপুটি স্পীকার মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নুর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাই তিনি এবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মহাদেবপুরে জনিকে না পেয়ে তার প্রতিনিধি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নুর সাথেও দেখা করে নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগীতা চান ফজলে হুদা বাবুল। এসময় ফজলে হুদা বাবুল আর আব্দুস সাত্তার নান্নুর একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি ঢাকা থেকে ফিরে ৮ নভেম্বর মহাদেবপুর উপজেলা সদরে বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধন থেকে বয়কট বয়কট, ফজলে হুদা বয়কট শ্লোগান দেয়া হয়। জনি তার বক্তব্যে মনোনয়ন পরিবর্তন করে তাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নুর নেতৃত্বে, বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম সাগর, হাজী আক্কাস, সেকেন্দার আলী, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ ভদ্র ও তাদের অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মীরা আগের দিন জনির পক্ষ ত্যাগ করে ফজলে হুদা বাবুলের পক্ষে যোগ দেন। এতে জনি মূলত: নেতাশূন্য হয়ে পড়েন। কিন্তু জনির কর্মীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। তারা প্রায় প্রতিদিনই মহাদেবপুর সদর, মোল্লাকুড়ি মোড়, নওহাটা মোড়, মাতাজীহাট প্রভৃতি স্থানে কাফনের কাপড় পড়ে সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপি ১০টি ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে চুড়ান্ত মনোনয়নপত্রে দলের প্রধানের স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত প্রার্থীর নাম উল্লেক না করে শুধুমাত্র ধানের শীষের প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে মনোনয়ন পরিবর্তন করে রবিউল আলম বুলেটকে মনোনয়ন দেয়া হয় কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ১৮ নভেম্বর উপজেলা বিএনপি মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করে। এরকম পরিস্থিতিতে ধানের শীষের প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মহাদেবপুর উপজেলা ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠী গঠন করা হয়। পরে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যন্ত এর কমিটি বিস্তৃত করা হয়। পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি চুড়ান্ত মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তবে রবিউল আলম বুলেট মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি। ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচারণার দিন থেকেই মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপি ধানের শীষের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুলের পক্ষে প্রচারণা শুরু করে। তারা ধানের শীষের সমর্থক গোষ্ঠীকে নিস্ক্রিয় করার দাবি জানালেও প্রার্থী তা করেননি। কারণ অনেকেরই সন্দেহ ছিল প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রচারণা চালালেও গোপনে অন্য কারও পক্ষে কাজ করতে পারেন। এরকম একটি অবিশ্বাস দানা বেঁধে ওঠে। কিন্তু এসবকে তোয়াক্কা না করে ফজলে হুদা বাবুল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সকলকে নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত কষ্টার্জিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন। অল্পদিনেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এক্ষেত্রে ফজলে হুদা বাবুলের বিশাল রাজনৈতিক সাফল্য হলো তিনি বিবাদমান সব গ্রুপকে কৌশলে ধানের শীষের প্রচারণায় আনতে সক্ষম হন। উপজেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মী শেষদিকে ধানের শীষের প্রচারে অংশ নেন। বিজয় পরবর্তী সমাবেশে রবিউল আলম বুলেট বলেন, দলের নেতাকর্মীরা সব ভেদাভেদ ভূলে মনপ্রাণ দিয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন এবং ভোট দিয়েছেন জন্যই আমাদের এই বিজয়। আর আব্দুস সাত্তার নান্নু বলেছেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থে যা কিছু উচিৎ তিনি করেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে