যমুনা নদীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের সরঞ্জাম জব্দ

এফএনএস (ইমরান হোসাইন রুবেল; সারিয়াকান্দি, বগুড়া) : | প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
যমুনা নদীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের সরঞ্জাম জব্দ

বগুড়ার সারিয়াকান্দি যমুনা নদীতে অভিযান চালিয়ে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরার নিষিদ্ধ সরন্জাম জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য অফিস। এসময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫ টা থেকে সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ টা ঘন্টা অভিযান চলমান ছিলো।  উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের শালিক চর ও কাজলা ইউনিয়নের টেংরাকুরা চর এলাকার যমুনা নদীতে মৎস্য অফিসের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) গোলাম শাকিল আহম্মেদ।  উপজেলা মৎস্য সূত্রে জানাযায়, যমুনা নদীতে নিয়মিত একটি চক্র ব্যাটারি থেকে ইনভার্টারের সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার করছে একাধিক অবৈধ চক্র। আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে দিনে-রাতে প্রকাশ্যে নদীতে ইনভার্টার ব্যবহারে মাছ শিকারের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এতে শুধু মাছ নয়, অন্যান্য জলজ প্রাণীও নিধনের শিকার হচ্ছে। ফলে জীব বৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এসব কারনেই মৎস্য রক্ষায় এ অভিযান চলানো হয়। মৎস অফিসের নিয়মিত এ অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। যার মধ্যে ২ টি ইনভার্টার (বৈদ্যুতিক সংকেতের মেরু বদল করার যন্ত্রাংশ) ৪টি বড় আকারের ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক তার রয়েছে। এছাড়াও শক দিয়ে ধরা প্রায় ৭ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিলো জব্দ তালিকায়। অভিযান শেষে এসব মাছ স্থানীয় দুইটি মাদ্রাসায় দিয়ে দেওয়া হয় কালিতলা ঘাটে এসে। তবে অভিযানের উপস্থিতি বুঝতে পেরে জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় জেলেরা বলেন, যমুনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য শিকারি চক্র ব্যাটারির সাহায্যে ইনভার্টার দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে পানিতে ফেললেই সহজে মাছ মরে যায়। এতে ছোট-বড় মাছের সাথে মরে যাচ্ছে নদীর জলজপ্রাণীজ সম্পদ। বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) গোলাম শাকিল আহম্মেদ বলেন, ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার করে শক দিয়ে নদী থেকে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার করায় মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নদীর তলদেশের জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। যারা এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে