নতুন সরকারের যাত্রার প্রথম দিনেই বড় পতন দেখল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ডিএসইএক্স সূচক ৫১ পয়েন্টের বেশি কমে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে নেমে আসে। সূচকের সঙ্গে কমেছে লেনদেনও। দিনশেষে হাতবদল হয়েছে ৯৩৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
এর আগের কার্যদিবসে সূচক ছিল ৫ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে। বুধবার লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই সূচকে যোগ হয় ২৭ পয়েন্ট। তবে সে ধারা ধরে রাখা যায়নি। এরপর থেকেই বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। মাঝে কয়েকবার সূচক ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে কম পয়েন্টেই লেনদেন শেষ হয়।
ভোটের আগের কর্মদিবস থেকে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর রোববার সূচক এক লাফে প্রায় ২০০ পয়েন্ট বাড়ে। এর আগে ২০২৪ সালের ৬ অগাস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পরের দিন সূচক বেড়েছিল প্রায় ১৯৭ পয়েন্ট। ৮ অগাস্ট সূচক বাড়ে ৩০৬ পয়েন্ট। তবে সাম্প্রতিক বড় উত্থানের পর সোমবার থেকেই সংশোধনে যায় বাজার। মঙ্গলবার সরকার গঠনের দিনও সূচক কমে ১৯ পয়েন্ট।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বুধবার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স ৫১ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫৫১৯ দশমিক ১৪ পয়েন্টে। ডিএস-৩০ সূচক ১৬ দশমিক ২০ পয়েন্ট কমে ২১১০ দশমিক ০৪ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১১ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে ১১০৫ দশমিক ২৮ পয়েন্টে অবস্থান করে।
এদিন ডিএসইতে ৩৯৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৬টির দর কমেছে, ৮২টির বেড়েছে এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। টাকার অঙ্কে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৮৭ কোটি টাকার বেশি। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
খাতভিত্তিক লেনদেনে শীর্ষে ছিল ব্যাংক খাত। মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বা ১৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে এ খাতে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয়েছে ১৫৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার এবং প্রকৌশল খাতে ৯১ কোটি টাকার।
লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল স্কয়ার ফার্মা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ঢাকা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রগতি লাইফ, মুন্নু ফেব্রিক্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, ব্র্যাক ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ও কে অ্যান্ড কিউ।
দর বৃদ্ধির তালিকায় সবার ওপরে ছিল নাহী অ্যালুমিনিয়াম। প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বেড়ে শেয়ারটির দাম দাঁড়ায় ২১ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস এবং প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সও উল্লেখযোগ্য দর বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংক সবচেয়ে বেশি দর হারানো কোম্পানির তালিকায় ছিল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও পতন দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক ৮৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪২৯ পয়েন্টে নেমে আসে। তবে এ বাজারে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। বুধবার সিএসইতে ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা বেশি। মোট ২২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৭টির দর বেড়েছে, ১২২টির কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বড় উত্থানের পর স্বাভাবিক সংশোধনের ধারাবাহিকতায় বাজারে এই পতন দেখা যাচ্ছে। নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
দিন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৭০৮ কোটি ৯২ লাখ ১৮ হাজার ৪৫ টাকা।