দ্রুত ইউপি ও উপজেলা ভোটের আশ্বাস স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর মির্জা ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
দ্রুত ইউপি ও উপজেলা ভোটের আশ্বাস স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর মির্জা ফখরুলের

দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন এবং “মব জাস্টিস” কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জনগণের প্রতি সরকারের যে অঙ্গীকার, তা রক্ষা করা হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়াই হবে অগ্রাধিকার।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ শেষে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব, আমরা এগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের সময়ে নির্বাচিত পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলরদের অপসারণ করে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অনেকেই এখনও বহাল আছেন, যদিও অনেকে কারাবন্দি বা এলাকাছাড়া বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে দ্রুত নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মির্জা ফখরুল বলেন, পরিস্থিতি যতটা খারাপ ভাবা হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়। তার ভাষায়, “আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নতি করেছে। ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি অনেকটাই ফিরে এসেছে। ব্যাংক অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।”

“মব জাস্টিস” বা গণপিটুনির বিষয়ে তিনি কঠোর বার্তা দেন। বলেন, “অবশ্যই এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতেই হবে।” তিনি মনে করেন, বড় একটি গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সব কিছু মুহূর্তে স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়, তবে সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরবে।

সরকারের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন এখন প্রধান অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে। কৃষক, মেহনতি মানুষ, কর্মজীবী নারী ও বেকারদের সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে পরে রাজনৈতিকভাবে জানাবে। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকাও তিনি প্রশংসা করেন। গণতন্ত্রে উত্তরণের ক্ষেত্রে তাদের অবদান রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এবং আলাদা কোনো শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলেও মত দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। মূল লক্ষ্য জনগণের সেবা করা। দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে