নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। বিপরীতে তারা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালেও মানেনি আইসিসি। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এবার নবগঠিত সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দেখালেন সম্পূর্ণ বিপরীত প্রতিক্রিয়া। একইসঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চান বলেও তিনি জানিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট। যেখানে টেকনোক্র্যাট হিসেবে গত মঙ্গলবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। এরপর সন্ধ্যায় তিনি মিরপুরে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেছেন- ‘শপথ অনুষ্ঠানের পর আমি সংসদ ভবনে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। সেখানে বিষয়টি (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বেশ বন্ধুসুলভ ছিলেন এবং আমিও সেভাবেই কথা বলেছি। আমি তাকে বলেছি আমরা আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই এ বিষয়ে সমাধান করতে চাই, কারণ সকল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই আমরা। খেলা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি জানেন যে, কূটনৈতিক জটিলতার কারণে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে পারিনি। যদি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এবং আগেই সমাধান করা হতো, আমাদের দল হয়তো (বিশ্বকাপে) অংশ নিতো।’ প্রথমবারের মতো সরকারের অংশ হওয়া এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর কী কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন এমন প্রশ্নে আমিনুল বললেন, ‘বিগত সময়ে আমরা অস্থিতিশীল ক্রীড়াঙ্গন দেখেছি। ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এই জায়গায় যেন ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। সকলে একটি পরিবারের মতো থেকে কীভাবে সবাই মিলে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, এটাই তো মূল টার্গেট। আমরা ইনশাআল্লাহ পরিবারের মতো একসঙ্গে এগিয়ে যাব।’ দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের হুঁশিয়ারি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর, ‘আমি একদম জিরো টলারেন্স দিয়ে দুর্নীতির লাগাম টানব। এটা নিয়ে কোনো শঙ্কা নাই। আপনারা যেখানে অনিয়ম হবে, সেটা আমাকে জানালে, আমি দায়িত্ব নিয়ে সেটা বন্ধ করার চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে ক্রীড়াঙ্গনে কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।’