রজমানের পবিত্রতা রক্ষায় ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের স্বাগত মিছিল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
রজমানের পবিত্রতা রক্ষায় ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের স্বাগত মিছিল

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, দুই জোট নির্বাচনের আগেই আসন ভাগাভাগি করেছে। নির্বাচন হয়েছে লোক দেখানো। নির্বাচনী জালিয়াতি কিছুই নয়, সবকিছু পরিকল্পিত হয়েছে। টিআইবি রিপোর্টে বলা হয়েছে নির্বাচন নিয়ে চরম অনিয়ম, জালিয়াতি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন সততার পরিচয় দিতে গিয়ে চরম বৈষম্যের শিকার। এরপরও আমরা দেশের স্বার্থে ও জনগণের কল্যাণে সবকিছু মেনে নিয়েছি। কিন্তু নতুন সরকার শপথ ভঙ্গের মাধ্যমে জুলাই সনদকে অবজ্ঞা করেছে। জুলাই সনদকে অস্বীকারে হ্যাঁ ভোট বাতিলের রিট করে বিগত সরকারের ন্যায় তারা আদালতের কাঁদে বন্দুক রেখে জুলাই অভ্যুত্থানতে অস্বীকার করছে।  বুধবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা, নিত্যপণ্যের দাম জনগণের নাগালে রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত স্বাগত মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্বাগত মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম, আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারী জেনারেল সুলতান মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, মাওলানা কেএম শরিয়ত উল্লাহ, মুফতী ফরিদুল ইসলাম, মুফতী মোঃ মাছউদুর রহমান, ফজলুল হক মৃধা, নজরুল ইসলাম, মুহাম্মাদ নাজমুল হাসান প্রমুখ। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, সরকার জনগণের সহযোগীতা চায় না। তারা চায় বিদেশীদের সহযোগীতা। আমরা বলেছি সরকার ভাল কাজ করলে সহযোগীতা করবো। কিন্তু জুলাই সনদকে অস্বীকার করলে, সংষ্কার না মানলে আমরা নিরবে বসে থাকবো না। গাজী আতাউর রহমান আরো বলেন, গত রমজানে উপদেষ্টা সরকার নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রেখে জনগণের আস্থা কুড়িয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা তুলনামূলক ভালো ছিলো, মার্কেটগুলো চাঁদাবাজমুক্ত ছিলো। বর্তমান সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা. আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন করা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে না পারলে সরকারের জন্য রুদ্ররোষের আশঙ্কা রয়েছে। মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, রমজান মাসকে সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে রাখলেও ব্যতিক্রম আমাদের বাংলাদেশ। রমজানকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিয়ে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে দেয়। তিনি বলেন, মানুষ যাতে দুমুঠো খেয়ে পড়ে সিয়াম সাধনা করতে পারে সে ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, ৯২ ভাগ মুসলমানের চিন্তা চেতনা ও বোধ-বিশ্বাস অনুধাবন করে মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় যা যা করা প্রয়োজন তাই করতে হবে। নতুন সরকারকে জনগণের কল্যাণে অশ্লীলতা-বেহায়াপনা, মদের বার বন্ধ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সমাবেশ শেষে মিছিল বায়তুল মোকাররম, পল্টন মোড়, বিজয়নগর পানির ট্রাঙ্কি হয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে