রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম | প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করলেন তারেক রহমান

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা দেখা যায় উল্লেখ করে তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসকে মুনাফার মাস হিসেবে বিবেচনা না করতে। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নবগঠিত সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসনকাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি–নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য। জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে এসব নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা। দেশের সব সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিধিবদ্ধ নীতিনিয়মে পরিচালিত হবে।

রমজানে রোজাদারদের সুবিধার্থে ইফতার, তারাবিহ ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি অপচয় রোধে কৃচ্ছ্রতা সাধনের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে—দল থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা প্লট সুবিধা নেবেন না। এটিকে তিনি ন্যায়পরায়ণতার আদর্শের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে রেল যোগাযোগব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধা, জ্ঞান ও বিজ্ঞানে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থী ও যুবকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়েই সরকার যাত্রা শুরু করেছে।

ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, দেননি কিংবা কাউকেই ভোট দেননি—এই সরকারের প্রতি সবার অধিকার সমান। দলমত, ধর্ম বা দর্শন যার যার—রাষ্ট্র সবার।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে