বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের দুই দিন ধরে আহুত কেন্দ্রীয় কমিটির সভার প্রথম দিনে নির্বাচন উত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ কর্তৃক উত্থাপিত রিপোর্টের উপর সদস্যগণের মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপিসহ স্বতন্ত্র সদস্যগণ শপথ না নেওয়ায় অভিনন্দন জানানো হয়। একইসাথে সভায় অপর এক প্রস্তাবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন গঠিত মন্ত্রীসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের অন্তর্ভুক্তিতে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। সিদ্ধান্তে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘ সংগ্রাম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করায় সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে বিরূপ ধারণা রয়েছে। বিএনপিও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তার পদত্যাগ দাবি করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি মার্কিন স্বার্থে মায়ানমারকে তথাকথিত মানবিক করিডোর প্রদান, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি তথা ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা প্রদান, দেশে তুরস্ককে সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব, জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী মার্কিনের সাথে বানিজ্য চুক্তি করা, গাজায় ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত 'গাজা প্রশাসন'-এ বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান ইত্যাদি নানাবিধ জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিরোধী অপতৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। তার মত একজন ব্যক্তিকে মন্ত্রী করাটা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং সরকারই প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই, বিবৃতিতে জনমত বিবেচনায় নিয়ে খলিলুর রহমানকে অবিলম্বে মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সভায় অপর এক প্রস্তাবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিদেশিদের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়।