বাংলাদেশের নারী ফুটবলের কিছু সাফল্যে যোগ আছে ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের নাম। তেমন এই কোচ নাম জড়িয়েছে অনেক বিতর্কের সাথেও। পিটার বাটলারের কোচিংয়ে বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রেখেছে। তার অধীনে বাংলাদেশ জাতীয় ও অনূর্ধ্ব-২০ দল প্রথমবারের মতো এএফসি এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। আবার তার সময়ই নারী ক্যাম্পে হয়েছে বিদ্রোহ। সেই বিদ্রোহের তদন্ত কার্যক্রম চলমান অবস্থায় গনমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এই ইংলিশ ম্যান। সাবিনা, মাসুরাসহ সিনিয়র কয়েকজনকে জাতীয় দলে বিবেচনায় আনেননি ব্যক্তিগত আক্রোশে। সাবিনাদের ক্যাম্পে ডেকে পরখ না করলেও সুইডেন থেকে আসা আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী নামের এক প্রবাসীকে সরাসরি জাতীয় দলে নিয়েছেন। এশিয়ান কাপের মতো বড় আসরে খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আপ টু দ্য মার্ক নয়। রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে জাতীয় দল। তার আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পিটার বাটলার। প্রস্তুতির ঘাটতির প্রসঙ্গ স্বীকার করেছেন কোচ। তবে প্রস্তুতির পরিকল্পনা নিয়ে বাফুফেকে নিয়েছেন এক হাত। আর সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বাফুফের বিরুদ্ধে করেছে বিস্ফোরক মন্তব্য। এই বাফুফে নাকি এই লেভেলের ফুটবলই বোঝে না। এমন কি পিটার বলে দিয়েছেন তিনি কারো হাতের পুতুলও নন। পিটার বাটলার বলেছেন, ‘হয়তো এই বাফুফের অনেকে এই লেভেলের ফুটবল বোঝেন না। মাঝে মাঝে ফুটবল জীবনেরও। তুমি ঝড়ের সাথে সাথে ফলাফলের ফাটল ধরে ফেলেছো। আর এটা শুধু প্রথম ১০ মিনিটে দুটি গোল করা এবং পরবর্তী ২০ মিনিটে পরবর্তী ২০ মিনিটে দুটি গোল করা নয়। এটা পারফরম্যান্স, বিশ্বাসযোগ্য পারফরম্যান্স একত্রিত করার বিষয় যা তুমি ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে পারো।’ নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে পিটার বাটলার বলেছেন, ‘মা সবসময় আমাকে বলতেন যত কম কথা, তত কম ঝামেলা। কিন্তু মাঝেমধ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য মুখ খুলতেই হয়। আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক মিথ্যাচার করা হয়েছে। আমি খুব বেশি কিছু বলব না, তবে বাস্তবতা হলো-প্রস্তুতি আদর্শ মানের হয়নি। আমি কাউকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দোষারোপ করছি না। আমাদের একটি পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সেটি কাজে লাগেনি। আমি একজন বাস্তববাদী মানুষ এবং এই দলের জন্য আমিই দায়বদ্ধ। তবে আমি কেবল তখনই দায়ভার নেব, যখন মানুষ মিডিয়ায় গিয়ে এটা বলা বন্ধ করবে যে-সবই 'বাটলারের পরিকল্পনা' বা 'বাটলারের দোষ'। আমি লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, ইংল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ার মতো অনেক আন্তর্জাতিক দল পরিচালনা করেছি; আমি কারো হাতের পুতুল নই। আমি সবসময় সংবাদমাধ্যম এবং খেলোয়াড়দের সাথে সত্য ও সততার পথে চলেছি।’ কিছুদিন আগে বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করীম বলেছিলেন, পিটার বাটলারের পরিকল্পনাতেই সব কিছু হচ্ছে। দল ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি দল যাবে। বাস্তবে দল অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে চার দিন পর। এ বিষয়ে কোচ পিটার বাটলার ‘আমাদের মূলত ১৪ তারিখে রওনা হওয়ার কথা ছিল। মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, স্পেন কিংবা অন্য কোথাও ক্যাম্প সেরে। তবে এখনকার বাস্তবতায় সময়ের সঠিক ব্যবহার করাটাই সবচেয়ে জরুরি এবং আমাদের হাতে থাকা সময়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে। আমাদের মূল ম্যাচ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। তাদের হারাতে পারলে সেরা আটে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। আমি মনে করি এগুলো সবই অনুমাননির্ভর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমি চাই দলটি একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পারফরম্যান্স দেখাক। প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান, কোরিয়া বা চীন যেই হোক না কেন-মনে রাখবেন উজবেকিস্তান প্রযুক্তিগতভাবে (টেকনিক্যালি) অত্যন্ত দক্ষ। তাদের অবমূল্যায়ন বা হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা কৌশলগত এবং শারীরিকভাবে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। যারা ভাবছেন আমরা এখনই বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করব-তাদের বাস্তবতায় ফিরে আসা উচিত। আকাশকুসুম না ভেবে ধাপে ধাপে এগোনোই ভালো। ফুটবলে অনেক চড়াই-উতরাই থাকে।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারপার্সন মাহফুজা আক্তার কিরণ। প্রস্তুতির ঘাটতিতে তিনি হতাশ কিনা জানতে চাইলে কিরণ বলেন,‘আমি হতাশ বলবো না। তবে বাইরে রেখে ওদেরকে ট্রেনিং করাতে পারতাম, আরও কিছু প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলাতে পারতাম, তাহলে সন্তুষ্টিটা আরো ভালো হতো। অবশ্যই এখন ওই সন্তুষ্টিটা নেই।’