সম্প্রতি ১২ ফেব্রুয়ারি হয়ে গেলো ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে সামান্য ব্যবধানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। এনিয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও শীশ মোহাম্মদের অনুসারী পুরাতন আদর্শিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
দলীয় সূত্র ও অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, ভোটের রাজনীতিতে গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম, পাঁকড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন, তানোর উপজেলার কলমা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী আর তালন্দ ইউপি চেয়ারম্যান ও আ.লীগের সভাপতি নাজিমুদ্দিন বাবুর কৌশলের কাছে বিএনপি ধরাশায়ী হয়েছে। এসব চেয়ারম্যান ও তাদের অনুগত আ.লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহারে এলাকায় গোপনে বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ কারণে বিএনপির দুর্গখ্যাত রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন ১ হাজার ৮৮৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। আর জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন। ফলে ক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা। অবিলম্বে এসব চেয়ারম্যান অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের দাবি করেছেন তারা।
বর্তমানে তানোর ও গোদাগাড়ীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিএনপির তৃণমুল নেতাদের অভিযোগ- আ.লীগের ভোট টানতে গিয়ে নিজের ঘর সামাল দিতে পারেনি বিএনপি। এ কারণে দলের বড় একটি অংশ ধানের শীষে ভোট দেয়নি। আবার আ.লীগও তাদের দেয়া কথা রাখেনি। চরম বেঈমানী করেছে।
তারা ধানের শীষে ভোট দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির কাছে থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু গোপণে ধানের শীষের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে ব্যবহার করেছে আ.লীগ। ভোটের খেলায় বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে প্রকাশ্যে আসেন চেয়ারম্যানদের অনুগত আ.লীগ নেতাকর্মীরা। কোথাও কোথাও নির্বাচনি প্রচারণায় তারা বিএনপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। এসব চেয়ারম্যানদের মদদপুষ্ট অধিকাংশ নেতা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কথা বলে নিজ নিজ এলাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা ও ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন।
তবে, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে থাকলেও তারা গোপনে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। অধিকাংশ নেতা গোপনে বিএনপির প্রতিপক্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। বিএনপিকে হারাতে তারা ধানের শীষের কথা বলে বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। অথচ বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে গোপনে তারা ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষের নেতাদের নিয়ে সব কৌশল ঠিক করেন। এমনকি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েও তারা বিএনপি বিরোধী রাজনীতি করেছেন। সারাদেশে জুলাই বিপ্লবের পর আ.লীগের বেশ কয়েকজন মেয়র ও চেয়ারম্যানদের অপসারণ করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি দুয়েকজনকে অপসারণ করা হয়। বিএনপিকে যার খেসারত দিতে হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
স্থানীয়রা জানান, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আ.লীগের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। ভোটের আগে হঠাৎ অনেকে এলাকায় ফিরে আসেন। গুঞ্জন রয়েছে ধানের শীষে ভোট দিতে তারা এলাকায় ফেরেন। এলাকায় ফিরে তারা সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেন। অথচ অতীতের যে কোনো নির্বাচনে এসব ইউনিয়নে জামায়াত এতো ভোট পায়নি। ভোটব্যাংক ছিল বিএনপি ও আ.লীগের হাতে। কিন্তু এবার অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে জামায়াত দুই উপজেলায় বিপুল ভোট পেয়েছে। এসব চেয়ারম্যান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিয়েও গোপণে বিএনপি বিরোধী রাজনীতি করেছেন এখানো করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়া আ.লীগের এসব চেয়ারম্যানের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের দাবি করেছেন। তারা বলছেন, এসব চেয়ারম্যানদের বিষয়ে নজরদারি ও তাদের সময়ে ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নযন প্রকল্প বাস্তবায়নে নয়-ছয়ের তদন্ত এখন সময়ের দাবি। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে, আগামীতে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে, অনেকে বলেছে দলীয় কোন্দলের কারণে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের দূর্গে হেরেছে বিএনপি। আগামীতে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ না হলে স্থানীয় নির্বাচনেও এমনই ফলাফল হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত রাজনৈতিক মহলের নীতিনির্ধারকরা। ই/তা