চাঁদপুরের পুরান বাজার জামে মসজিদ মোটামুটি বড় ও পুরনো একটি মসজিদ। মসজিদটি দোতলা ভবনের। এ মসজিদের গায়ে রঙিন কাচ ও পাথর দিয়ে দৃষ্টিনন্দন চিনিটিকরির কারুকাজ করা আছে। দোতালা ছাদের এক পাশে মাঝারি আকারের একটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের চারকোনায় ৪টি ও সামনের এক অংশে আরো ৪টি সহ মোট ৮টি ছোট ছোট মিনার রয়েছে। গম্বুজ ও মিনার গুলিতেও চিনিটিকরির কারুকাজ করা রয়েছে। মসজিদের সামনেই বেশ উঁচু একটি চিনিটিকরির কারুকাজ করা মিনার রয়েছে। বেশ দূর থেকেই শতবর্ষের এ মসজিদের উঁচু মিনারটি দেখতে পাওয়া যায়। তবে চারপাশের গিঞ্জি বাজারের জন্য মসজিদের আসল সৌন্দর্য ম্লান হয়ে গেছে। মসজিদটি কে বা কারা কখন তৈরি করেছে সে সম্পর্কে কোন তথ্য সংরক্ষণ নেই। চাঁদপুর বাণিজ্যিক শহরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদ হলো পুরান বাজার জামে মসজিদ। এটি মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনগণের দান-অনুদান এবং পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে। মোগল আমলে, ধারণা করা হয় ১৭ শতকের শেষের দিকে নির্মিত এই মসজিদটি চাঁদপুর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে গণ্য করা হয়। পুরান বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মুসলিম জনগণের ঐকান্তিক দান ও সহায়তায় মসজিদটি নির্মিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।এটি ঐ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ, যা বাণিজ্যিক এলাকার মুসল্লিদের জন্য একটি অন্যতম প্রধান ইবাদতের স্থান। পুরান বাজারের এই ঐতিহাসিক মসজিদটি ব্যবসায়ীদের সততা ও ধর্মীয় অনুভূতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা শতাব্দী ধরে ঐতিহ্য বহন করে আসছে। মসজিদটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে এর স্থাপত্যবৈশিষ্ট্যের জন্য। চাঁদপুর জেলা শহরের সবচাইতে বড় এই পুরোনো মসজিদের ভেতরে এবং দ্বিতীয় তলায় প্রতি কাতারে ৮০ জন করে ২৫ কাতারে প্রায় ২০০০ জন মুসল্লির একসাথে নামাজের ব্যবস্থা আছে। তবে সম্প্রসারিত অংশ মিলিয়ে এখন এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার জন্য বাজারের তিনটি রাস্তায় তিনি গেইট রয়েছে। চাঁদপুর চেম্বার ভবনের সামনে মুসলিম মৃত নর নারীদের জানাজার নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে,এক সময় নাখোদারা চাঁদপুর নদী বন্দরে ব্যবসা করেছেন।তৎকালীন মুসলিম ব্যবসায়ীরা মিলে তাদের দান অনুদানে এই মসজিদটি গড়ে তোলা হয় বলে জানা যায়। স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে এই মসজিদ পরিচালনায় ছিলেন চাঁদপুর বণিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা হাজী রফিউদ্দিন সোনা আখন্দ।ওনার পরে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনে ছিলেন মরহুম ডা. মজিবুর রহমান চৌধুরী, আবু তাহের বাসু আখন্দ, ডা. আবদুল হাই আখন্দ,হাজী বিল্লাল আখন্দ,জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, আলহাজ্ব মো. ইউনুস মিয়াজী প্রমুখ।বর্তমানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনৈতিক আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মাস্টার এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম আখন্দ। এখন খতিব ও ইমামের দায়িত্বে আছেন মুফতি ইব্রাহিম খলিল মাদানী। পুরান বাজার ঐতিহাসিক জামে মসজিদের আধুনিকায়ন করার কাজে বাজারের তরুণ ব্যবসায়ীরা ভূমিকা রাখেন। এই মসজিদের অজুখানা, ভিতরের টাইল স্থাপন,এসি লাগনোসহ অনেক উন্নয়ন কাজ তারা করেছে।