পাবনার সুজানগরে এবছর তেল জাতীয় ফসলের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮‘শ হেক্টর জমিতে। কিন্তু অনুকূল আবহাওয়া আর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কৃষি প্রণোদনা দেওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে আবাদ হয়েছে সাড়ে ১৮‘শ হেক্টর জমিতে। বিশেষ করে উপজেলার অধিকাংশ উঁচু জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার শাহপুর গ্রামের কৃষক আসলাম হোসেন বলেন, এ বছর আমি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে ৩বিঘা জমিতে বারি সরিষা-১৪ আবাদ করেছি। আর ২/৪দিন পরেই মাঠ থেকে সরিষা উঠানো যাবে। আশা করছি ফলন খুব ভাল হবে। উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক আজমল হোসেন বলেন সরিষা আবাদে খরচ কম লাভ বেশি। সেকারণে এ বছর উপজেলার বড় কৃষক থেকে শুরু করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরাও সরিষা আবাদ করেছে। তিনি আরো বলেন প্রতি বিঘা সরিষা আবাদে সার-বীজসহ উৎপাদন খরচ হয় ২৫‘শ থেকে ৩হাজার টাকা। আর এবার মাঠে সরিষার ফুল-ফল দেখে মনে হচ্ছে প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন হবে ৬ থেকে ৭মণ। ইতিমধ্যে চরাঞ্চলে আগাম আবাদ করা সরিষা উঠানো শুরু হয়েছে। ওই সকল সরিষা প্রতি বিঘায় ৬মণ উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে হাট-বাজারে সরিষার দামও ভাল। প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩২‘শ টাকা দরে। ফলে বর্তমান এ বাজারে উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি বিঘা সরিষায় কৃষকের দিগুণেরও বেশি লাভ হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন সরকার ভোজ্য তেলের উপর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে আগামী ৩/৪বছরের মধ্যে শতকরা ৪০ভাগ তেল ফসলের আবাদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেকারণে উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের পেঁয়াজের পাশাপাশি সরিষা আবাদে উদ্বুদ্ধ করছে।