লক্ষ্ণীপুরে অযত্নে পড়ে আছে ভাষা শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
লক্ষ্ণীপুরে অযত্নে পড়ে আছে ভাষা শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন

লক্ষ্ণীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাষা সংগ্রামীদের স্মৃতি ধরে রাখতে গড়ে ওঠা স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্নগুলো এখন অবহেলায় পড়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সময়ের সঙ্গে একুশের চেতনা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় পর্যায়ে সারা বছর এসব স্মৃতি সংরক্ষণে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। স্থানীয়দের দাবি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এলেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল দেওয়া হয়, কিন্তু বছরের বাকি সময় স্মৃতিচিহ্নগুলোর কোনো খোঁজখবর থাকে না। 

স্থানীয়দের দাবি, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয় ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি রক্ষায় বছরজুড়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

কমলনগর উপজেলার ভাষাসৈনিক কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা ১৯৮৭ সালের ২৯ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন। তাঁকে হাজিরহাটের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, মেহনতি মানুষের এই প্রিয় নেতা ছিলেন অত্যন্ত মানবদরদী। প্রতিবছর তাঁর কবরে ফুল দেওয়া হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, উনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। প্রতিবছর মানুষ তাঁর কবরে ফুল দেয়। আরেক বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন,কমরেড তোয়াহা একজন ভাষা সৈনিক ছিলেন।ঝুমুর থেকে কমলনগর সড়ক তাঁর অবদান। এই সড়কটি তাঁর নামে নামকরণ করা দরকার। স্থানীয় বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিনের ভাষায়,কমরেড তোয়াহা একজনের না, সবার। কিন্তু এখন সবাই যেন তাঁকে ভুলে গেছে।

এদিকে একই উপজেলার ভাষাসৈনিক ও চারণ সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরীর স্মৃতিচিহ্নও অবহেলায় পড়ে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৯২৮ সালে জন্ম নেওয়া এই সংগঠক ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৬ জুন ২০০১ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর শেষ স্মৃতি ঘরটি সম্প্রতি আগুনে পুড়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় থাকায় স্থাপনাটি অযত্নে পড়ে আছে। এলাকাবাসীর মতে, তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক ও গরিব-দুঃখীদের অকৃত্রিম বন্ধু। এলাকাবাসী দ্রুত স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, কমরেড তোয়াহা রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের একজন সদস্য ছিলেন, যা ১৯৫২ সালে গঠিত হয়েছিল। তাঁর সমাধি কমলনগরে থাকা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের চেতনা ছড়িয়ে দিতে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে