কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স বরাদ্দের ২ লাখ টাকার ভ্যাকসিন কেনেনি

এফএনএস(টিপু সুলতান,কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স বরাদ্দের ২ লাখ টাকার ভ্যাকসিন কেনেনি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেস্কে কুকুরে কামড়ানো ভ্যাকসিন কেনার সরকারি বরাদ্ধের টাকা আত্নসাতের পায়তারা করছে। গত দুই মাস আগে সরকারি বরাদ্ধের প্রাপ্ত দুই লাখ টাকা কুকুরে কামড়ানো ভ্যাকসিন না কিনে, ফলে এটাকা নিয়ে চলছে নানান জল্পনা। এদিকে প্রায় ৪ মাস কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। অতি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরক্ষাকারী ওই ভ্যাকসিন না পেয়ে চরম ভোগান্তী পোহাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। বিশেষত অতি প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক রোগের প্রতিশোধক ভ্যাকসিনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থাই গ্রহন করছেনা।  বিশেষ করে কুকুর বিড়ালে কামড়ানো রোড়ি হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না পেয়ে তারা বাজার থেকে৬/৭ টাকা দিয়ে ভ্যকসিন কিনে নিয়ে রোগিরা সেবা দিচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেস্কে প্রায় ৪ মাস ধরেই হাসপাতালটিতে কুকুরে কামড়ানো ভ্যাকসিন নেই। এটি ক্রয়ের জন্য গত দুই মাস আগে উপজেলা পরিষদের এডিবির ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পায়। সেখান থেকে ভ্যাট ও খরচ বাদে ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার একটি চেকহাতে বরাদ্ধ হয়। কিন্তু অদ্যাবধি পর্ষন্ত ওই টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কেনা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, একটি অসাধু চক্র ভ্যাকসিন কেনার ওই অর্থ লোপাট করতে পারে। যে কারনে ভ্যাকসিন সংকটে দরিদ্র নিন্ম আয়ের সাধারন মানুষের দূভোগ চরমে পৌচেছে।

কুকুরে কামড়ানো জলাতংক রোগের ভ্যাকসিন নিতে হাসপাতালে আসা শহরের পৌর এলাকার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মাটিকাটা শ্রমিকের স্ত্রী রোমেচা,বলেন, তার বয়স্ক শাশুড়ীকে কুকুরে কামড়ানোর পর একাধিকবার হাসপাতালে গিয়েও ভ্যাকসিন পায়নি। পরে জীবন বাচানোর তাগিদে বাজার থেকে বেশি মূল্য দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য হয়েছেন। আরিফ মোল্লার মেয়ের জন্য কয়েকবার হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন মেলেনি।আড়পাড়া গ্রামের উম্মে আসমা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গিয়ে ভ্যকসিন না পেয়ে ফরে আসেন।এভাবে প্রতিনিয়িত উপজেলার একাধিক রোগীরা ভোগান্তীর স্বীকার হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবী,ভ্যাকসিন সংকট দ্রুত সমাধান করা হোক। অন্যথায় জরুরি চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বাইরের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দন্ড দিতে হচ্ছে। 

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ অরুন কুমার জলাতংক ভ্যাকসিন সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, আমি এক সপ্তাহ হল নতুন দ্বায়িত্ব নিয়েছি। আগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দ্বায়িত্বকালে উপজেলা থেকে ভ্যাকসিন কেনার জন্য টাকা বরাদ্ধ পেয়েছেন। তবে, ভ্যাকসিন কেনা না হলেও ওই টাকা গচ্ছিত আছে। ভ্যাকসিনের মূল্য বেশি হওয়ায় কেনা হয়নি বলে যোগ করেন তিনি। 

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, প্রায় দুই মাস আগে হাসপাতালে ভ্যাকসিন কেনার জন্য দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কেনা হয়নি এটি তার জানা নেয়। আর ওই টাকা কি করা হয়েছে বা কেন কেনা হয়নি বিষয়টি পরে জানাবেন বলে জানান তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে