যশোরের শার্শায় পল্লী চিকিৎসক আলামিন (৩৫) হত্যার একদিন পর তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের যশোর জেলে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, শার্শা উপজেলার দক্ষিন বুরুজবাগান গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আলাউদ্দিন আলা, একই গ্রামের জামির হোসেনের ছেলে লালন হোসেন ও আব্দুল কাদেরের ছেলে সেলিম মিয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ- আলাউদ্দিন আলা ও সেলিম নাভারণ এলাকার একজন চিহিৃত চাঁদাবাজ এবং কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তারা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতির ছত্র ছায়ায় থেকে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করেন। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, নিহত আল আমিন বেশ কিছু দিন আগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিয়ে করেন। সে তার প্রথম স্ত্রীকে শার্শার কুলফালা গ্রামে রেখে ছোট স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। গত মাস তিনেক আগে নাভারণ এলাকায় এরই সুত্র ধরে আল আমিনকে মারধর করে এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে আলাউদ্দিন আলা ও তার লোকজন। তবে আলামিনকে কে বা কারা হত্যা করেছে বলতে পারছি না। পুলিশ জানায়, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতির ছত্র ছায়ায় থেকে তিন সন্ত্রাসী নাভারণ এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে দীর্ঘদিন। তাদের আটকের বিএনপির সভাপতি তাদের ছাড়ানোর জন্য নিজেই থানায় গিয়েছিলেন। পুলিশের শক্ত অবস্থানের কারনে তাদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে ব্যার্থ হয়ে ফিরে যান বিএনপি সভাপতি। শার্শা থানা ওসি (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, আলামিন হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে যশোর আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য গত (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আলামিনকে দুবৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় পরেরদিন (২০ ফেব্রুয়ারি) শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নিহতের পরিবার। যার মামলা নং ১৩।