দুই বছরেও চালু হয়নি পৌর পানি শোধনাগার

এফএনএস (মোঃ ইমদাদুল হক; সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা) : | প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
দুই বছরেও চালু হয়নি পৌর পানি শোধনাগার

পৌরবাসির সুপেয় পানীয় জল সংকট লাঘবের জন্য নির্মিত সুন্দরগঞ্জ পৌর পানি শোধনাগারটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পরও চালু হয়নি। ফলে পৌরবাসির সুপেয় পানীয় জল সংকট যে তিমিরে ছিল সে তিমিরে রয়ে গেছে।  উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর হতে সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে পৌরসভার পূর্ব বাইপাস মোড়ে ৩৪ শতক জমির ওপর পৌর পানি শোধনাগারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৭৩ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ হচ্ছে। ২০০ ঘন মিটার/ঘন্টা ক্ষমতা সম্পন্ন এই পানি শোধনাগারটি নির্মাণ করছেন এম এ এস কনসোটিয়াম লিমিটেড। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পানি শোধনাগারটি ২০২৪ সালে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে পৌরসভাকে হস্তান্তর করেন। কিন্তু তা পৌরবাসির জন্য উন্মুক্ত কেন আজও হয়নি, তার কোন সদুত্তর জানা নেই পৌরবাসির। শোধনাগারটির সার্বিক তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাবি, ছয় লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বাকী এবং পৌর ড্রেন নির্মাণের সময় কেটে যাওয়া পাইপ সংস্কার না করার কারনে এটি চালু করা সম্ভাব হচ্ছে না। ২০০৩ সালে স্থাপিত সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা। নানাবিধ কারনে আজ পৌরসভাটি প্রথম শ্রেনিতে উন্নীত হতে পারেনি। সে কারনে পৌরবাসি নাগরিক সেবা হতে অনেকটা বঞ্চিত রয়েছে। পৌরবাসির কর ছাড়া পৌরসভা অচল। আবার পৌরসেবা প্রদান না করলে কর দিচ্ছে না পৌর নাগরিকগণ বলেন সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবিব। তার দাবি নির্বাচিত মেয়র ছাড়া পৌরসভার উন্নয়ন সম্ভব নয়। পৌর সভার ৮ নং ওয়ার্ডের সাখাওয়াত হোসেন  বলেন, ২০ হাজার টাকা খরচ করে ১৯০ ফুট পর্যন্ত পাইপ বসানোর পরও নলকুপের পানি আয়রন মুক্ত হয় না। সে কারনে আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ২০২০ সাল থেকে শুনে আসছি পৌর সভায় পানি শোধনাগার নিমার্ণ হচ্ছে। এটি চালু হয়ে গেলে সুপেয় পানির অভাব আর থাকবে না। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পরও চালু হয়নি পৌর পানি শোধনাগারটি। যার কারনে পৌরবাসি পানীয় জলের তীব্র সংকটে ভুগছেন। তার দাবি ২২ বছর ধরে পৌরবাসি নাগরিক সেবা ময়লা আর্বজনা, লাইটিং, রাস্তাঘাট, ড্রেনেস ব্যবস্থাপনা এমনকি সুপেয় পানি সরবরাহ হতে বঞ্চিত রয়েছে। পৌরসভার আরেক নাগরিক জাফর আলী সরকার অক্ষেপ করে বলেন, নামে মাত্র এটি পৌরসভা। পৌর নাগরিকদের একটি সেবা আজও নিশ্চিত হয়নি। বিগত ২২ বছরের পানীয় জলের সংকট দুর করতে পারেনি পৌরসভা। সে কারনে পৌরবাসি সুপেয় পানির অভাবে ভুগছে। পানি সরবরাহের অভাবে পাবলিক টয়েলেট, মসজিদ, মন্দির, হাট-বাজার, বাসষ্টান্ডে সুবিধাভোগি মানুষজন নানাবিধ কষ্ট করে আসছেন। উপজেলা উপ-সহকারি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. খোকন রানা বলেন, পৌর পানি শোধনাগারটি চালু হলে ৬০০ পরিবার সুপেয় পানি সুবিধাভোগ করবেন। শুরুতেই ৪০০ পরিবারের চাহিদা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে এটি বাড়িয়ে ৬০০ পরিবারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।  বিদ্যুৎ বিল বাকী এবং পৌর ড্রেন নির্মাণে কেটে যাওয়া পাইপ সংস্কার না করায়  এটি চালু করা সম্ভাব হচ্ছে না। শোধনাগারটি চালু হলে পৌরসভায় পানীয় জলের সংকট অনেকটা দুর হবে। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলির সাথে মোবাইল ফোনে বহুবার যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে তাঁর কোন মতামত নেয়া সম্ভাব হয়নি। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে