রাজশাহীর পুঠিয়ায় বানেশ্বর হাট উত্তরবঙ্গের অন্যতম হাটের ভিতর একটি। উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে তড়িখড়ি করে কম দামে হাট ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে ১১.৮৫ একর জমির ওপর বানেশ্বর হাট অবস্থিত। এখানে সপ্তাহে দুইদিন শনি এবং মঙ্গলবার হাট বার হয়ে থাকে। গত বাংলা ১৪৩২ সনে হাটটি ইজারা হয়ে ছিল ৪ কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার টাকায়। আর আগামী বাংলা ১৪৩৩ বছরে ইজারা হয়েছে ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। যা গত বছরের তুলনায় ৫৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা কম মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। বানেশ্বর এলাকার স্থায়ী কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের সমঝোতার ভিত্তিতে হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র বলছেন, আগে হাট-বাজার ইজারা নিয়ম ছিল, প্রতিবছর ছয় শতাংশ হারে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে ইজারা মূল্য প্রতিবছর বৃদ্ধি করতে হবে। আর নতুন পরিপত্রে উক্ত ধারা রোহিত করা হয়েছে। যারফলে ইজারা মূল্য কম হয়েছে। বানেশ্বর হাট সিন্ডিকেট করে যারা প্রতিবছর রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে হাট নিয়ে থাকেন। তারাই এবছর হাট ইজারা নিয়েছেন। এবছর ইজারা পেয়েছেন জাকির হোসেন সরকার রাসেল নামের এক ব্যক্তি। গত বছর তার নামে ইজারা ছিল। হাট এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন বলেন,উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সমঝোতা করে সুকৌশলে একটি মাত্র হাটের দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আর সেই দরপত্র জমাদানকারীকেই আবার হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন প্রথম পর্যায়ে দর কষাকষি না করে হাটটি তড়িখড়ি করে ইজারা দেওয়ায় সাধারণ মানুষরা সন্দেহের চোখে দেখছেন। ধীরেসুস্থে হাটটি ইজারা দিয়ে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছিল। শিমুল মোল্লা নামের হাটের দোকানদার বলেন, ইজারাদার সরকারের নিকট হতে কম দামে হাট ইজারা নিল। কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতারা এর সুফল পাবে না। উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতির কারণে ইজারা কম দরে আদায় হবে না। তারপর দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের সমঝোতার মাধ্যমে এই হাটের টাকা আত্সসাৎ হয়ে আসছে। উপজেলা প্রশাসন প্রতিবছর হাটের উন্নয়নমূলক কাজ না করে রাজস্বগুলো নয়ছয় করে অন্যত্র খরচ করে থাকেন। অপরদিকে ১৮ ফের্রুয়ারি উপজেলার বানেশ্বরসহ আরো তিনটি হাট তাড়াহুড়া করে প্রথম পর্যায়ে মোল্লাপাড়া, সাধনপুর, ভালুকগাছি তড়িখড়ি করে প্রথম পর্যায়ে ইজারা দেওয়া হয়েছে। গত বছর মোল্লাপাড়া হাটের ইজারা ছিল ৩৬ লাখ টাকা আর আগামী ১৪৩৩ বাংলা সনে ইজারা হয়েছে ২০ লাখ টাকায়। কিন্তু চলতি বছরের ১২ জুন মাস পর্যন্ত ইজারা মেয়াদ আছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, নতুন পরিপত্র অনুযায়ী হাটে ইজারা মূল্য কম হয়েছে। আমরা বানেশ্বর হাটের জন্য একাধিক দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি দরপত্র জমা পড়েছে।