অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ

রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি

আমাদের দেশের তরুণর-যুবারা প্রতিনিয়ত তরুণরা উন্নত জীবনের আশায় দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে বিপজ্জনক পথে পা বাড়াচ্ছে। বৈধ ভিসা ও নিরাপদ যাত্রার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হলেও মাঝপথে বদলে যায় রুট- জঙ্গল, সীমান্ত, অনাহার, অসুস্থতা এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে চলতে হয় দীর্ঘ পথ। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে আটকে রেখে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবার থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এই নিষ্ঠুর ব্যবসার কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের অসহায় স্বপ্ন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে যাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই সর্বাধিক। গত এক দশকে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ, যাঁদের মধ্যে প্রতিবছর অন্তত ৫০০ জনই ছিল বাংলাদেশি। এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়; প্রতিটি মৃত্যু একটি পরিবার, একটি সম্ভাবনা, একটি জীবনের ধ্বংসের প্রতিচ্ছবি। আমরা মনে করি, কেন এত তরুণ জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন- এর উত্তর খুঁজতে হবে দেশের বাস্তবতায়। বেকারত্ব, দক্ষতার অভাব, আয়ের সীমাবদ্ধতা এবং বিদেশে সাফল্যের অতিরঞ্জিত বয়ান তরুণদের প্রলুব্ধ করছে। স্থানীয় দালালেরা সামাজিক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে। অনেক পরিবারও প্রবাসী আত্মীয়ের সাফল্য দেখে একই পথকে গ্রহণযোগ্য মনে করে। ফলে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা থাকলেও তা বাস্তব সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথমত মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামপর্যায়ে দালালদের নেটওয়ার্ক ভাঙতে গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত বিচার প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ সহজ করতে হবে। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে অবৈধ পথের আকর্ষণ কমবে। তৃতীয়ত, গণসচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের মতে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেবল মৃতদেহ ফিরিয়ে আনা নয়, বরং এমন মৃত্যু প্রতিরোধ করা। বিদেশে যাওয়ার যে পথ প্রতারণার ফাঁদে পড়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, সে পথ বন্ধে আমাদের সম্মিলিত পদক্ষেপ এখনই জরুরি। তরুণদের স্বপ্নকে নিরাপদ বাস্তবতায় রূপ দিতে হলে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার- সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।