দেশের ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের মানুষের মতো বাঁচার নিশ্চয়তার দাবি করেছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি। আজ সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সভায় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দেশের বেশিরভাগ শ্রমজীবী মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছে। চাল, ডালসহ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের সারা বছর কাজ এবং ন্যায্য মজুরি না পাওয়ায় তারা স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে না। সভায় সরকারের ফ্যামিলি কার্ড চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, সভায় এই কার্ড বিতরণে গ্রামীণ মজুর ও ক্ষেতমজুরদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি সহ গ্রামীণ মজুরদের অন্যান্য সংগঠনের সাথে আলোচনা করে সঠিক কার্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি/পরিবারের তালিকা তৈরির দাবি করা হয়। নেতৃবৃন্দ মনে করেন এভাবে তালিকা তৈরি হলে অতীতের মত বিভিন্ন গ্রামীণ বরাদ্দের লুটপাট ও অনিয়ম বন্ধ হবে। দেশের বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে নতুন সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আগামী জাতীয় বাজেটে গরিব মানুষের জন্য সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন সকল দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা ও ষাটোর্ধ্ব মজুরদের মাসে ১০ হাজার টাকা পেনশন চালু জরুরী। এসব দাবিতে ক্ষেতমজুর সমিতি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজা, সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, সহ সাধারণ সম্পাদক কল্লোল বনিক, নির্বাহী কমিটির সদস্য পরেশ কর, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, দরিদ্র মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হন। তাঁরা দিনের পর দিন হাসপাতালে থেকেও প্রকৃত চিকিৎসা ও ঔষধপত্র পান না। জেলা-উপজেলায় সরকারি হাসপাতালোতে সার্বক্ষণিক চিকিৎসার নিশ্চয়তার দাবি করা হয় সভা থেকে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রতি অনুযায়ী ‘জাল যার জলা তার’-নীতি বাস্তবায়ন করে হাওর, বাওড়, খাস জলাশয়ের ইজারা প্রথা বাতিল করে সাধারণ মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।