তানোরে কৃষকদের ঠকাচ্ছে গভীর নলকুপ অপারেটররা

এফএনএস (সাইদ হোসেন সাজু; তানোর, রাজশাহী) :
| আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম | প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
তানোরে কৃষকদের ঠকাচ্ছে গভীর নলকুপ অপারেটররা

রাজশাহীর তানোরে কৃষকদের  ঠকাচ্ছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভীর নলকুপ অপারেটররা। নলকুপ অপারেটররা কৃষকদের (জমির মালিকদের) অনুমতি ছাড়াই আলুর প্রজেক্টে দিয়ে প্রতি বিঘায় ৫ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রজেক্টের মালিকের কাছে প্রতি বিঘা জমি ২০ হাজার টাকায় অপারেটররা ইজারা দিলেও কৃষকদের দিচ্ছেন ১৪ হাজার টাকা। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় বেশ কয়েকজন কৃসককে এখনো তাদের জমি লিজের টাকা দেয়নি অপারেটররা। কৃষকরা বলছেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ছত্র ছায়ায় থাকা অপারেটরদের এমন ঘটনার বিষয়ে কোন কৃষক প্রতিবাদ করলে সেই কৃষকের জমিতে (সেচ) পানি না দেয়ার ঘোষনা দিয়ে ওই কৃষকের জমি পরিত্যক্ত রেখে দেয়া হয়। অপর দিকে বোরো ধানের জমিতে সেচ (পানি দিতে) প্রতি বিঘায় ১৬শ' টাকা থেকে ১৮শ'' টাকা জোর পূর্বক আদায় করছেন অপারেটররা। এমন ঘটনা ঘটেছে তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ৫ টি গভীর নলকূপের কৃসকদের সাথে। ওই ৫টি গভীর নলকুপের আওতায় প্রায় ৭শ' থেকে ৮শ' বিঘা জমিতে আলুর পামাপাশি বোরো চাষ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ওই ৫টি গভীর নলকূপের আওতায় প্রায় ২ শতাধিক কৃষকের স্বাক্ষরিত আব্দুস সালাম নামের কৃষক বাদি হয়ে প্রায় প্রায় ৬০ জন কৃষক উপস্থিত হয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তানোর থানার অফিসার  ইনচার্জ ও বিএমডিএ নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবার পৃথক পৃথক ভাবে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও অধ্যাপক মজিবুর রহমানের কাছেও দেয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে অপারেটর নিয়োগ পেয়েই কৃষকের সাথে পরামর্শ না করে ওই ৫টি ডিপে জমি আলু চাষের জন্য লিজ দেয়। আলুর প্রজেক্টের মালিকের সাথে চুক্তির চেয়ে বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা কৃষকদের কম দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বোরো জমির চাষের জন্য কৃষকদের কাছ থেকে ইচ্ছে মাতো আদায় করা হচ্ছে।  একই প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ২০২৫ সালেও প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষ টাকা কম দেওয়া হয় এবং অনেক কৃষক এখনো তাদের প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে পাইনিন। আলম, পিতা মৃত সামান মেম্বার মালশিরা, সুলতানের ডিপে সাড়ে ৩ বিঘা জমি আলু চাষ হয়েছে,, ১৪ হাজার টাকা করে দিয়েছে ৪৯ হাজার টাকা।মেছের আলী পিতা মৃত মড়া প্রামানিক মালশিরা,, নিজের জমি ২ বিঘা কট নেয়া আছে ২ বিঘা, সুলতানের ডিপে ১০ কাঠা, মিলন ও জয়নাল আবেদিনের ডিপে  ১ বিঘা  ১০ কাঠা। ১৪ হাজার টাকা করে দিয়েছে। হিমেল ডিপে ১০ কাঠা ১৪ হাজার টাকা করে দিয়েছে।এমন অসখ্য ব্যাক্তিদের জমি ডিড হয়েছে ১৭ হাজার ১৮ হাজার বা ২০ হাজার কিন্তু কৃষকদের দিয়েছে ১৪ হাজার বা ১৬ হাজার টাকা।পাশাপাশি বোরো ধান চাষের জন্য ডিপভেদে ১৮০০-২৫০০ টাকা করে হার ধার্য করা হয়েছে।যা কৃষকদের সাথে আলোচনা না করেই।ভুক্তভোগী কৃষকরা ডিপগুলোর হিসেব চাইতে গেলে তাদের বিভিন্ন রকম হুমকি ও মারধরের অভিযোগ ও পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে অপারেটরদের পাওয়া যায়নি। তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান বরেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে