আলোচনায় আলাল ও আবু নাস

বরিশাল সিটি করপেরেশনের প্রশাসক নিয়ে গুঞ্জন

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
বরিশাল সিটি করপেরেশনের প্রশাসক নিয়ে গুঞ্জন

দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এখনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। খুব শীঘ্রই বিসিসির প্রশাসকের নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলে বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

তবে কে হবেন বিসিসির প্রশাসক। এনিয়ে বরিশালের রাজনৈতিক মহলে চলছে নানান আলোচনা। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নাম।

দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে বিএনপির ছয়জন নেতাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই বরিশাল নিয়েও এমন আলোচনা জোরালো হয়েছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে দেওয়া হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী দলের আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলকে সুসংগঠিত করে আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করেছিলেন।

সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি ৩৫০টিরও বেশি মামলার আসামি হয়ে বছরের পর বছর কারাভোগ করেছেন। দল ক্ষমতায় আসলেও এখনো তাকে কোন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হয়নি। যেকারণে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিসিসির প্রশাসক পদটি দিয়ে তাকে মূল্যয়িত করবেন।

তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। গুঞ্জনটি ঘিরে বরিশালের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও দলের একটি পক্ষ স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ও অবদান রাখা নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

ওই পক্ষের দাবি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালের সন্তান হলেও দীর্ঘদিন বরিশালের রাজনীতিতে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন। যেকারণে দলের দুর্দীনে যেসব নেতৃবৃন্দরা বরিশালের রাজপথে সরব ছিলেন তাদের মধ্যথেকে প্রশাসক নিয়োগ করার জন্য তারা দাবি তুলেছেন।

সেমতে বিসিসির এ গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর নাম উঠে এসেছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজধানী ঢাকায় রহমাতুল্লাহর অবদান ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। পরবর্তীতে তিনি (রহমাতুল্লাহ) বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সু-সংগঠিত করে বরিশালের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে প্রথম সারির নেতা হিসেবে অংশগ্রহণ করে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বরিশালবাসীর মন জয় করে নিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে দলের সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মূল ভূমিকা পালন করেছেন। যেকারণে ত্যাগী নেতা হিসেবে তিনিও এ পদটি পেতে পারেন বলে দাবী করছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল জেলা বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার ও পূর্বঘোষিত কর্মসূচির বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এটি পুরোপুরি দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে শেষপর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, সেটি এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ পদে দলের দুর্দীনে বরিশালের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা নেতাকে দায়িত্ব অর্পন করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বরিশালবাসী।