নানা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে সরকার চুক্তি বাতিল করেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি বাংলাদেশ চত্বরে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি পদত্যাগ করিনি। আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আমি শুনেছি আমি নেই। তাই চলে যাচ্ছি।”
ড. মনসুর তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব দিয়েছেন। তার দায়িত্বকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে নানা সংস্কার ও প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছিল। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ক্ষমতায় আসার নয় দিনের মাথায় গভর্নরের পদে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এই সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে উপস্থাপন করেছেন। মন্ত্রীর সম্মতি পেলে প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যাবে, এবং এরপর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নতুন গভর্নর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
প্রসঙ্গত, গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের আয়োজনে সমাবেশে কর্মকর্তারা জানান, তাদের দাবিগুলো পূরণ না হলে বৃহস্পতিবার থেকে কলমবিরতিতে যাবেন।
ড. আহসান এইচ মনসুর কর্মকর্তাদের প্রতিবাদের বিষয়ে বলেন, “পদত্যাগ করতে আমার মাত্র দুই সেকেন্ড সময় লাগবে। আমি এখানে এসেছি জাতির সেবা করতে। দেশের এই সংকটকালীন সময়ে জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।” তিনি আরও জানান, “কিছু কর্মকর্তা স্বার্থান্বেষী মহলের ইশারায় পরিচালিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছেন। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রক্ষায় কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।”