চাঁদার দাবিতে তিন সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

এফএনএস (শাহ জামাল; মেলান্দহ, জামালপুর) : | প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
চাঁদার দাবিতে তিন সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

জামালপুরের মেলান্দহে চাঁদার দাবিতে তিন কৃষকের বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ ওঠেছে। এতে দেড় শতাধিক বিঘা জমির ফসল হুমকির মুখে। ঘটনাটি ঘটেছে, ২নং চর এলাকায়।

ক্ষতিগ্রস্থ ৫নং চরের তিন সেচ মালিক ও কৃষকরা হলেন, আ: রাজ্জাক (৫৫), বাবুল (৪০) এবং আসাবুদ্দিন (৪০) জানান- আমাদের জমিজমা ২নং চর সীমানায়। এই জন্য চার বছর আগে ২নং চর এলাকার বিদ্যুতের খুঁটি থেকে প্রতিজন ১০ হাজার করে টাকা দিয়ে তিনটা সেচ লাইনের মিটার নেই। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিলও পরিশোধ করে আসছি। বর্তমানে পানির অভাবে বোরো ধানের ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে গেছে।

এই বছর হঠাৎ করে আমাদের কাছে ৫০ হাজার করে টাকা দাবি করে ২নং চরের বেনজির (২৫), বিদ্যুৎ মিস্ত্রি রিপন (২৫), শামা শেক (৪০), হাজুবর (২৫) এবং ফজলু (৩০)। এই টাকা না দেয়ায় ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে তারাবিহ নামাজের পর ১৫/২০ জন লোক আমাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। শত অনুরোধের পরও আমাদের সংযোগ দিচ্ছে না।

 এ ব্যাপারে গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী (৪৫) এবং আ: জব্বার (৭০) জানান-ফসল রক্ষার জন্য আমরা ব্যক্তিগতভাবে মসজিদের মুসুল্লিদের কাছে বলার পর অভিযুক্তরা আমাদের মারধর করেছে। এখন তারা বলছে, এক গ্রামের বিদ্যুতের খুঁটি থেকে আরেক গ্রামে (৫নং চরে) নিতে দিবে না।

এ ব্যাপারে জামালপুর (পিডিবি) বিদ্যুৎ অফিসের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আজাদ রুবেল জানান-বৈধ গ্রাহকের সংযোগ অন্য কেও বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। আইনের দৃষ্টিতে এটি অপরাধ। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

২নং চরে সরেজমিনে গেলে অভিযুক্তদের সবাইকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত বেনজির বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমাদের গ্রামের বিদ্যুৎ অন্যদের দেয়া হবে না। তবে চাঁদা ও মারধরের দাবিটি অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান-বিষয়টি আমি খোঁজ নিচ্ছি। অফিসার ইনচার্জ ওবায়দুর রহমান জানান-ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক বাবুল হাসানের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে